সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এপ্রিল ফুল নয়, সত্যি ঘটনা। ৫০ লক্ষ ফোর-জি হ্যান্ডসেট ফ্রি-তে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চায় রিলায়েন্স জিও।
গতবছরের ২০ নভেম্বর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের প্রধান ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং প্রতিশ্রুতি দেন, ৫০ লক্ষ যুবককে ফ্রি-তে ফোর-জি হ্যান্ডসেট দেবেন। সঙ্গে এক গোটা বছর ধরে ফ্রি ডেটা ও ভয়েস কল। তাঁর এই প্রতিশ্রুতিতে অনেকেই ব্যঙ্গ করেন, মুকেশ আম্বানিকে নকল করে ‘হিরো’ হতে চাইছেন অমরিন্দর সিং। দেশের সবচেয়ে ধনী ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ কোটি মানুষকে ফ্রি-তে ফোর-জি ডেটা ও ভয়েস কল অফার দিচ্ছেন। গতকাল রাতে তো সেই অফারের মেয়াদ আরও তিন মাস বেড়েছে।
[মিশে যাচ্ছে রিলায়েন্স ও এয়ারসেল, তৈরি হবে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক]
সূত্রের খবর, অমরিন্দর কিন্তু কোনও ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেননি। পাঞ্জাবে রিলায়েন্স বিপুল লগ্নি করে পরিকাঠামো তৈরি করছে। মুকেশ আম্বানি সত্যি আস্বস্ত করেছিলেন, কংগ্রেস ভোটে জিতলে ৫০ লক্ষ ফোর-জি স্মার্টফোন হয় ফ্রি-তে, নয়তো খুবই সস্তায় যুবকদের হাতে তুলে দেবেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমস-এর।
অমরিন্দরের সঙ্গে আম্বানির ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। ২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই দুজনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল। একরের পর একর সরকারি জমিতে কোটি কোটি লগ্নি করে প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছিলেন আম্বানি। কিন্তু ২০০৭-এ মুখ্যমন্ত্রীত্বের কুর্সিতে বসে প্রকাশ সিং বাদল সেই কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ তাঁর পূর্বসূরীর। এখন ফের ক্ষমতায় এসে ‘ক্যাপ্টেন স্মার্ট প্রোজেক্ট’ শুরু করেছেন অমরিন্দর সিং।
[সব টেলিকম সংস্থাকে পিছনে ফেলে দেবে BSNL-এর এই ডেটা অফার]
এখনও পর্যন্ত ওই প্রকল্পে ৩০ লক্ষ যুবক নাম নথিভুক্ত করেছেন। যদিও এই প্রকল্প একাধিক বিতর্কেও জড়িয়েছে। এভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। যদিও অমরিন্দর সিং জানিয়েছেন, তিনি এই কাজ করছেন যুবকদের ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে আরও একাত্ম করে তুলতে। বেসরকারি সূত্রের দাবি, সম্ভবত এই সরকারি প্রকল্পের বরাত পেয়ে যাবেন আম্বানি। তাই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পাঞ্জাবের যুবকদের হাতে ৫০ লক্ষ হ্যান্ডসেট তুলে দিতে উদ্যোগী হচ্ছেন মুকেশ আম্বানি।
[এই সংস্থা প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা দেবে ৩১৯ টাকায়]
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে রাজ্যের প্রশাসন দেনার দায়ে ডুবে রয়েছে, তাদের পক্ষে ফ্রি হ্যান্ডসেট ও এক বছরের ফ্রি ফোর-জি ডেটা খরচের বহরে ভারী হতে পারে। কিন্তু মুকেশ আম্বানির পক্ষে এই কাজ তেমন কঠিন নয়। এই ‘বিজনেস মডেল’ রিলায়েন্সের পক্ষে লাভজনকও বটে। সংস্থার এক শীর্ষ কর্তার যুক্তি, “পাঞ্জাবে ইতিমধ্যে জিও-র ৪০ লক্ষ গ্রাহক রয়েছে। জিও-র ফ্রি অফার শেষ হয়ে গেলে অনেকেই কানেকশন ছেড়ে দেবেন। তাই ৩ হাজার টাকা দামের কিছু বেসিক ফোর-জি হ্যান্ডসেট চিন থেকে আমদানি করে ৫০ লক্ষ নতুন গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়াই যায়। তাহলে কানেকশন ছেড়ে যাওয়ার হিড়িক কমবে। কারণ, সঙ্গে মিলবে একবছরের ফ্রি ডেটা ও ভয়েস কল অফারও।” যদিও পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী মনপ্রীত বাদল বলেছেন, সরকারি প্রকল্পে হ্যান্ডসেট বিতরণের জন্য গ্লোবাল টেন্ডার ডাকা হবে। ইতিমধ্যেই নাকি বেশ কিছু সংস্থা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। যারা সবচেয়ে কম খরচে ফোন সরকারের কাছে বিক্রি করবে, তারাই বরাত পাবে।