সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বদলে গরুকে জাতীয় প্রাণীর মর্যাদা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন শেখ। শুধু তাই নয়, দেশ জুড়ে গো-হত্যা রুখতে আইন আনার কথা বললেন ওই বিধায়ক। কংগ্রেস বিধায়কের এহেন আবদারে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দরিয়াপুরের ওই বিধায়কের প্রশ্ন, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, পশ্চিমবঙ্গ এবং গোয়ায় গো-হত্যা বিরোধী আইন কেন আনছে না বিজেপি? আদৌ রশিকতা করে নাকি সত্যি সত্যি এমন দাবি করেছেন গিয়াসউদ্দিন তা বোঝা যাচ্ছে না। কংগ্রেসেরই একাংশের দাবি, বিজেপিকে খোঁচা দিতেই এমন মন্তব্য করেছেন বিধায়ক।
তিনি আরও বলেছেন, ‘হিন্দু শাস্ত্রমতে, ৩৩ কোটি দেব-দেবী রয়েছে। এবং সব দেবতাই গরুর শরীর ধারন করে পৃথিবীতে রয়েছে। বিজেপির উচিত, গরুকে অবিলম্বে জাতীয় প্রাণী ঘোষণা করা।’ গরুকে হাতিয়ার করে মেরুকরণের রাজনীতি করার জন্য বিজেপিকে তোপ দেগেছেন গিয়াসউদ্দিন। তাঁর বক্তব্য, চিমানভাই প্যাটেলের আমলে কংগ্রেস সরকার গুজরাটে প্রথম গো-হত্যা বিরোধী আইন আনে। পরে বিজেপি সরকার দুবার আইন প্রণয়ন করলেও গো-হত্যা রুখতে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর মতে, বিজেপি সরকার গুজরাটের ফসলী জমি শিল্পপতি বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে গরু মাঠের বদলে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় এবং প্লাস্টিকজাত বর্জ্য খায়। গোশালা তৈরি করতে কোনও খরচই করেনি বিজেপি। তারা শুধু ভোটের জন্য গরুর নামে মেরুকরণের রাজনীতি করে গিয়েছে।
এরপর গোরক্ষার নামে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে গিয়াসউদ্দিন কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘মুসলিমরা হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করে। গো-হত্যা থেকেও বিরত থাকে মুসলিমরা। হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে এমন কিছুই করে না মুসলিমরা। এমনকী গো-হত্যাও নয়। কিন্তু যেখানে সংবিধানই আমাদের পছন্দমতো খাবার খাওয়ার অধিকার দিয়েছে এবং নিজের মতো করে ধর্মকে অনুসরণ করার অনুমতি দিয়েছে, সেখানে গরুর নামে দুই গোষ্ঠীর ঝামেলায় মানুষের মৃত্যু সত্যি অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।’