সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বৈশাখের তপ্ত দুপুর। খাঁ খাঁ করছে রাস্তাঘাট। আচমকাই নিঃস্তব্ধতা ভেঙে ছুটে আসছে ডজনখানেক মোটরবাইকের মিছিল। চালক-আরোহীদের হাতে শান দেওয়া তরোয়াল, গলা জড়ানো গেরুয়া কাপড় আর আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে সবার মুখে একটাই ধ্বনি, ‘জয় শ্রী রাম’। দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যের রাজধানীর রাজপথে কয়েকদিন আগে এমনই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। তাঁদের একটাই সংকল্প, উত্তরপ্রদেশের সর্বত্র হিন্দু মহিলাদের মুসলিম যুবকদের থেকে দূরে রাখা। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মস্তিকপ্রসূত এই সংগঠনের নাম হিন্দু যুবা বাহিনী।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছে তাদের নাম। ‘লাভ জেহাদ’ বা হিন্দু মহিলাদের ইসলামে ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এই বাহিনীর নয়া হুঁশিয়ারি, কোনও মুসলিম যুবক হিন্দু মেয়েকে ছুঁলে তরোয়াল দিয়ে জবাব দেবে তারা।
এই হুঁশিয়ারির জেরেই ফের একবার শিরোনামে হিন্দু যুবা বাহিনী। ২০০২ সালে যোগীর হাতে তৈরি এই সংগঠন বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে হিন্দুদের ত্রাতা এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ত্রাস হয়ে উঠেছে।

প্রায় ২২ কোটি মুসলিমের বাস যে রাজ্যে, সেখানে হিন্দু যুবা বাহিনীর দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাতেই উদ্বিগ্ন সেখানকার মুসলিম সমাজ। কিছুদিন আগে ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগে এক হিন্দু যুবতী ও মুসলিম যুবককে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে হেনস্তা করে যুবা বাহিনী। তারপরই এমন হুমকি রীতিমতো বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতি করেছে। বাহিনীর এক শীর্ষ নেতা পঙ্কজ সিংয়ের হুঁশিয়ারি, ‘রক্ত ঝরবেই এবং মুসলিমরা এর ব্যথা টের পাবে।’ তাঁর অভিযোগ, বহু শতাব্দী ধরে হিন্দুদের ধর্মান্তকরণের এই নোংরা খেলা খেলে আসছে মুসলিমরা। এবার তারা হিন্দু মহিলাদের দিকে হাত বাড়ালে তরোয়ালের প্রতিরোধ গড়বে হিন্দু যুবা বাহিনী।