সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৩-এ ত্রিপুরা জয়ের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে একেবারে সম্মুখসমরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল। এই লড়াইয়ে তাঁর সেনাপতি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর ত্রিপুরা সফরে একাধিকবার অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষত গত শনিবার এবং রবিবার যেভাবে ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের উপর আক্রমণ ধেয়ে এসেছে, তাতে অভিষেককে নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন দলের সুপ্রিমো। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ”সেদিন বুলেটপ্রুফ গাড়ি না থাকলে অভিষেকেরও মাথা ফাটত। ত্রিপুরায় ওর নিরাপত্তা নেই, প্রাণসংশয় আছে।”
রবিবার রাতে ত্রিপুরা থেকে আহত তিন যুব নেতাকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় ফিরেছেন অভিষেক। রাতেই তাঁদের এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার এসএসকেএম হাসপাতালে আহত যুবনেতা সুদীপ রাহা, জয়া দত্তদের দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের দেখে হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়েই ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। বলেন, ”এই হামলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই ঘটেছে। পরিকল্পনামাফিক পুলিশের সামনে এই হামলা চলে। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে পরোক্ষে উসকানি দিয়েছে।” এরপরই তিনি অভিষেককে নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে বলেন, ”অভিষেকেরও সেদিন মাথা ফাটত। যেভাবে ওর গাড়িতে হামলা হয়েছে, বুলেটপ্রুফ গাড়ি না হলে বড় আঘাত পেত ও। আমি জানি, অভিষেক যে বিমানে উঠবে, সেই বিমানে ওর আশেপাশের পাঁচটা আসন বুক করে গুন্ডাদের তুলে দেওয়া হবে। ওকে হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে। ওর প্রাণসংশয় আছে।”
[আরও পড়ুন: ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই হামলা হয়েছে’, SSKM-এ সুদীপ-জয়াকে দেখে শাহকে আক্রমণ Mamata’র]
গত সপ্তাহে ত্রিপুরায় পা রেখেই বাধাবিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে তাঁর গন্তব্য পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় কালো পতাকা, গো ব্যাক স্লোগান, পথ অবরোধ – দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায়। তাঁর কনভয়ের গাড়িতেও চলে হামলা।
অভিষেক নিজে গাড়ি থেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভকারীদের কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই অবস্থায় সেসময় তিনি বিপ্লব দেব সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ”১০ দিনের মধ্যে আবার আসব, পারলে আটকান।” দেখা গেল, ঠিক সাতদিনের মাথাতেই ফের অভিষেক ত্রিপুরায় পা রাখেন দলের আক্রান্ত যুবনেতাদের পাশে দাঁড়াতে, তাঁদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে। রবিবার তাঁদের জামিন না হওয়া পর্যন্ত দিনভর থানায় বসে অভিষেক বোঝালেন, তিনি লড়াইয়ের মাটি আঁকড়ে থাকতে ভয় পান না। তবে অভিষেক ভয় না পেলেও তাঁকে নিয়ে চিন্তিত দলের সুপ্রিমো।