সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। সম্প্রতি সিস্তান-বালুচিস্তান সীমান্তের মীরজাভিহে পাকিস্তানের সুন্নি জঙ্গি সংগঠন জৈশ আল-আদল অন্তত ১০ জন ইরানি সৈন্যকে হত্যা করেছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে ইরানে অবস্থিত পাক রাষ্ট্রদূতকে সমন পাঠিয়েছে তেহরান। আসিফ দুরানিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে ওই জঙ্গিদের শাস্তি দিতে হবে।
[ফের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে চিনকে অসম্মান করেছে উত্তর কোরিয়া: ট্রাম্প]
দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল ১০ ইরানীয় সৈন্যের মৃত্যুর প্রতিবাদে পাকিস্তানের মনোভাবের কড়া সমালোচনা করেছে ইরানের বিদেশমন্ত্রক। তেহরানের বক্তব্য, “পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি। আমরা আমাদের সৈন্যদের সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে চাই। আশা করি পাকিস্তানও এমনটাই মনে করে। ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।” গত চার বছরে এই নিয়ে অন্তত তিনবার পাক জঙ্গিরা ওই এলাকায় ইরান সেনার উপর হামলা চালাল। সীমান্তবর্তী এই এলাকা ড্রাগ পাচার ও জঙ্গি হাতিয়ার আদান-প্রদানের স্বর্গরাজ্য।
এ বিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে কড়া ভাষায় একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি কার্যকলাপের উপর রাশ টানতে হবে শরিফকে। সশস্ত্র জঙ্গিরা বারবার পাক প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের চরম ক্ষতি করছে। রুহানি এও জানিয়েছেন, ইরানের মাটিতে কখনই জঙ্গি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হয় না। ইরানের সরকারি টেলিভিশন প্রেস টিভি ইরান অবশ্য এতটা রাখঢাক না রেখেই জানিয়েছে, ইরানীয় সেনা তাঁদের ১০ সহকর্মীর মৃত্যুকে বিফলে যেতে দেবে না। ইসলামাবাদকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় নিতেই হবে। ইরানি সেনাও এই হত্যাকাণ্ডের চরম বদলা নিতে প্রস্তুত। ইরান পুলিশ জানিয়েছে, ওই ১০ সেনাকে হত্যা করতে পাক জঙ্গিরা দূরপাল্লার ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে।