সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ওটিং গুলি কাণ্ডের জেরে উত্তাল নাগাভূম। মন জেলা থেকে রাজধানী কোহিমা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তুঙ্গে। এহেন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়িয়ে সোমবার বিতর্কিত আফস্পা (AFSPA) আইন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব পাশ হল নাগাল্যান্ড বিধানসভায়।
[আরও পড়ুন: ‘আফস্পা’-র প্রতি অনাস্থা]
ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখ জঙ্গি সন্দেহে একটি গাড়িতে গুলিবর্ষণ করে সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা। ‘ইন্টেলিজেন্স ফেলিওর’ অর্থাৎ গোয়েন্দা তথ্যে ভুল ও পরিস্থিতি বিচারের গলদের জন্য প্রাণ হারাতে হয় ১৩ জন সাধারণ মানুষকে। পালটা উন্মত্ত জনতার হামলায় প্রাণ হারান এক জওয়ান। তারপর থেকেই আফস্পা আইনের বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে পাহাড়ি রাজ্যটি।
Nagaland Govt upgrades two sub-divisions to full-fledged districts, creates a new one pic.twitter.com/q7RXDSZ8LT
— ANI (@ANI) December 21, 2021
গতকাল সেই দাবিকে কার্যত মান্যতা দিয়ে বিতর্কিত আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে প্রস্তাব পেশ করা হয় নাগাল্যান্ড বিধানসভায়। মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নেইফু রিও-র পেশ করা প্রস্তাবটি বিনা বাধায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে যায়। বলে রাখা ভাল, নাগাল্যান্ডে মুখ্যমন্ত্রী নেইফু রিও’র এনডিপিপি-র সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার চালাচ্ছে বিজেপি। এদিকে, আরও একটি নতুন জেলা পেল নাগাল্যান্ড। নিউল্যান্ড মহকুমাকে জেলার তকমা দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা (AFSPA) প্রত্যাহারের দাবি আজকের নয়, দীর্ঘ সময়ের। সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তার নামে সেনাবাহিনী তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন করে বলে প্রায়শয়ই অভিযোগ ওঠে। প্রসঙ্গত, নয়ের দশক থেকে অসম, নাগাল্যান্ড-সহ উত্তরপূর্ব ভারতের প্রায় সবকটি রাজ্য ‘উপদ্রুত এলাকা’ হিসাবে চিহ্নিত করে সেখানে সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করার অধিকার দিয়েছে কেন্দ্র। একই পরিস্থিতি মনিপুরেও। সেখানে আফস্পা প্রত্যাহারের দাবিতে নেত্রী ইরম শর্মিলা চানু দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছিলেন। সেই ইতিহাস কারও অজানা নয়।