সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রেপ্তার করা হল জম্মু-কাশ্মীরের লিবারেশন ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসিন মালিককে৷ সোমবার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের ডাকা বৈঠকের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় থানায় রাখা হয়েছে মালিককে।
এদিকে, বৈঠকের আগে গৃহবন্দি করে ফেলা হল হুরিয়ত নেতা মারওয়াইজ ফারুককেও। হুরিয়তের এক মুখপাত্র জানান, রবিবার রাতেই ফারুককে গৃহবন্দি করা হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের এই বৈঠকটি হায়দারপোরায় হুরিয়ত কনফারেন্স প্রধান আলি শাহ গিলানির বাড়িতে হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই সেখানে কড়া পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাইরের কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
[পাকিস্তানের হাতে সিয়াচেন তুলে দিতে চেয়েছিল ইউপিএ সরকার, ফাঁস রিপোর্ট]
সূত্রের খবর, রবিবার জম্মু-কাশ্মীর সহ মোট ২৩টি জায়গায় অভিযান চালায় এনআইএ। কাশ্মীরের রাস্তায় রাস্তায় হিংসাত্মক বিক্ষোভের পিছনে পাকিস্তান থেকে নিয়মিত আর্থিক মদত ঢুকছে এ দেশে। হুরিয়তের মাঝারি স্তরের কয়েকজন নেতা ও হাওয়ালা লেনদেনে অভিযুক্ত কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগে এনআইএ তদন্ত চালাচ্ছে। সেই তদন্তের প্রতিবাদেই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা সোমবার শ্রীনগরে বৈঠক ডাকে৷ এই বৈঠক জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বাতিল বলে ঘোষণা করলেও সূচী বদলায়নি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।
উল্লেখ্য, সাইমোহ গ্রামে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হিজবুল কমান্ডার সবজার ভাট ও ফইজান আহমেদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গত ২৮ মে তাদের সঙ্গে দেখা করে ইয়াসিন মালিক। সেদিনই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। গত সপ্তাহেই ছাড়া পান তিনি। মূল বৈঠকের খসড়া সেখানেই তৈরি হয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় বড়সড় নাশকতার ছক এড়ানো গেল বলেই মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে, শনিবার সেনার গুলিতে দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়। প্রতিবাদে উপত্যকায় দু’দিনের বনধ ডাকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এমনকি, মঙ্গলবার ত্রালে মিছিলেরও ডাক দিয়েছে তারা। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি রয়েছে সেনা।