(চিত্র ও তথ্য সহায়তায়: ব্রতীন দাস, অর্ণব আইচ ও নব্যেন্দু হাজরা)
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কড়া হওয়ার বার্তা তিনি সকালেই দিয়েছিলেন৷ কিন্তু তাঁর স্বরূপ যে এভাবে দেখতে হবে, আঁচ করতে পারেনি মোর্চা নেতৃত্ব৷ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অক্লান্তভাবে দার্জিলিংয়ের ম্যাল থেকে শুরু করে হাসপাতালে কার্যত চষে বেড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সচিবদের নিয়ে বৈঠকে জাভেদ শামিম-সহ তিন আইপিএস অফিসারকে নিয়ে গড়ে দিলেন পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি৷ মোর্চার জঙ্গি আন্দোলনে চোখে আঘাত পাওয়া পুলিশকর্মীকে দেখতে গেলেন হাসপাতালে৷ হেলিকপ্টারে করে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার বন্দোবস্তও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রয়োজনে বিদেশেও নিয়ে যাওয়া হবে৷ চিকিৎসার খরচ পুরোটাই দেবে রাজ্য সরকার৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ২৫ হাজার টাকা ও বাকি আক্রান্তদের ২০ হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার৷
[দার্জিলিংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের শহরে ফেরাতে বিনামূল্যে বাসের ব্যবস্থা মমতার]
মিরিক থেকে শুরু হয়েছিল। মোর্চাকে কীভাবে সামলাবেন তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আন্দোলনের নামে মোর্চার গা-জোয়ারি, তাণ্ডব রুখতে তাঁর প্ল্যান বি বোধহয় তৈরি ছিল। যে জিটিএ নিয়ে এত টানাপোড়েন, তার পাঁচ বছরের হিসেব চেয়ে গুরুং বাহিনীকে পাল্টা চাপ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই অঙ্গ হিসাবে অর্থ দপ্তরের ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে এদিন ৬ সদস্যের জিটিএ অডিট কমিটি তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে টিম জিটিএ-র হিসেব খতিয়ে দেখবে৷ আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে এই কমিটি।

গতকালের ঘটনার পর সরকার কাউকে রেয়াত করবে নাঃ মুখ্যমন্ত্রী #DidiInDarjeeling
— AITC (@AITCofficial) June 9, 2017
আর এক মাস বাকি GTA নির্বাচনের। ৫ বছরে কোন কাজ করেনিঃ মুখ্যমন্ত্রী #DidiInDarjeeling
— AITC (@AITCofficial) June 9, 2017
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পাহাড় থেকে পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় কলকাতা পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যটকদের সাহায্যের জন্য ম্যালে তৈরি হয়েছে বিশেষ হেল্প ডেস্ক। অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন, তাই ঝুঁকি না নিয়ে নামাতে হয়েছে সেনা। মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এদিন ধীরে হলেও খানিকটা ছন্দে ফিরেছে দার্জিলিং৷ আটকে থাকা পর্যটকদের একাংশও ম্যালে আসতে শুরু করেছেন৷ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে কলকাতা থেকেও বেশ কিছু পর্যটক দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বরাভয়ে তাঁরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত।
[রাস্তায় নেমে দার্জিলিংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের আশ্বস্ত করলেন মমতা]

দার্জিলিংয়ে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ, “পাহাড়ে যখন উন্নতি হচ্ছে, তখন ওদের হিংসা হচ্ছে৷ তাই পুরোপুরি উসকানি দিয়ে অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করছে৷” মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “যে ইস্যু নিয়ে মোর্চা এসব করছে, সেটা কোনও ইস্যুই নয়৷ আমরা কোনওভাবেই বাংলা ভাষাকে চাপিয়ে দিইনি৷ কখনও বলিনি পাহাড়ে বাংলা ভাষা আবশ্যিক করা হবে৷ আমরা বলেছি, কেউ নিজের ইচ্ছায় পড়তে পারে৷ মিথ্যা প্রচার হচ্ছে, মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে৷ একটা মিথ্যা ইস্যুকে নিয়ে এভাবে তাণ্ডব চালানো হল৷”

বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও জঙ্গি ধাঁচে আন্দোলন চালানোর চেষ্টা করছে মোর্চা৷ এদিন মংপুতে একটি নির্মীয়মাণ আইটিআই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কাউকে পাহাড়ে আগুন জ্বালাতে দেব না৷ পাহাড় থেকে পর্যটকদের মুখ ফিরিয়ে নিতে দেব না৷ প্রশাসনকে মমতার কড়া বার্তা, অভিযুক্তদের রেয়াত করা যাবে না৷ পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন মমতা৷

এদিন সকাল থেকেই ম্যালের রাস্তায় হেঁটে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আরও অনেকের কাছে পৌঁছাতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মাইক হাতে জিপে চাপেন। নিজস্ব ঢংয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়েছেন, তিনি সঙ্গে আছেন।
[মোর্চা তাণ্ডবে ধস পর্যটনে, একদিনেই বুকিং বাতিল ৩০ শতাংশ]

রাজ্য পরিবহণ দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে, শুক্র ও শনিবার যে সমস্ত যাত্রী বাসে কলকাতায় ফিরবেন, তাঁদের ভাড়া লাগবে না। পর্যটকদের নামাতে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ড থেকে কলকাতা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা অন্তর বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। পর্যটকদের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করেছে এনবিএসটিসিও।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য ভোর ৫টা থেকে খোলা বাগডোগরা বিমানবন্দর। সকাল ৬টা থেকে খোলা বিমানবন্দরের ক্যান্টিনও। শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে ৩৯০৬ জন যাত্রী বিভিন্ন রুটের বিমান ধরার জন্য অপেক্ষা করছেন৷

[মোর্চার বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ পাহাড়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডাক সেনার]
হেল্পলাইন নম্বর:
শিলিগুড়ি ০৩৫৩-২৫১১৯৭৪
দার্জিলিং: ০৩৫৪২-২৫৫৭৪৯
পাহাড়ে আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছেন পাহাড়বাসীরাই৷ বিনামূল্যে পর্যটকদের খিচুড়ি রেঁধে খাওয়ালেন তাঁরা৷
