নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: রাস্তায় ঘুরছেন, ফুচকা খাচ্ছেন, বাজার করছেন নিচ্ছেন নিশ্চিন্তে। কিন্তু শহরেরর মহিলারা নিরাপদ তো? এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে শ্রীরামপুরেরর মহিলাদের মনে। অভিযোগ, শ্রীরামপুরের কিশোরী, যুবতী থেকে গৃহবধূদের আপত্তিকর ছবি তুলে ফেসবুকে ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আপলোড করা হচ্ছে ‘ব্লু–ফিল্ম’। গত ৮ জুন প্রথম অভিযোগ দায়ের হয় শ্রীরামপুর থানায়। এরপর থেকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়তে থাকে। এখনও পর্যন্ত ৬টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এই ঘটনায় এসডিপিও কামনাশিস সেন জানিয়েছেন, “সাইবার ক্রাইমের আওতায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কে বা কারা যুক্ত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
[নস্টালজিয়া উসকে ভারতে Nokia-র তিনটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের আত্মপ্রকাশ]
শ্রীরামপুর থানা সূত্রে খবর, ফেসবুকে এক মহিলার নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এরপর সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই শ্রীরামপুরের মহিলাদের ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, শুধু মহিলাদের ছবিই নয়, একই সঙ্গে আপলোড করা হচ্ছে অশ্লীল ভিডিও। ফলে সামাজিক সম্মানহানি হচ্ছে ওই মহিলাদের। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের মনে হয়েছে, শ্রীরামপুরের কোনও চক্র এই কাজ করছে। যারা প্রথম মহিলাদের বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গির ছবি তুলেছে। তারপর ফটোশপে ফেলে আরও কুরুচিকর করে সেগুলিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, গোটা বিষয়টি একই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে করা হচ্ছে। সেই আইপি অ্যাড্রেস খোঁজার চেষ্টা চলছে।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এই চক্রের পিছনে যারা রয়েছে তারা প্রতিদিন রাস্তায় প্রকাশ্যে মহিলাদের উপর নজর রেখে চলেছে। যদি অসাবধানতাবশত যদি কারও কাপড়, জামা সরে যায় সেই পরিস্থিকেই টার্গেট করছে এরা। দ্রুত মোবাইল, ক্যামেরায় ছবি তুলে নিচ্ছে এরা। আবার ফটোশপ প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ব্লু ফিল্মের নায়িকার মুখ সরিয়ে স্থানীয় মহিলাদের ছবি বসানো হচ্ছে। তবে দ্রুত এই সমস্যা মিটবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সূত্রের খবর, এই ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশের সাহায্য চাইতে পারে জেলা পুলিশ।