ব্রতীন দাস, শিলিগুড়ি: বিমল গুরুংয়ের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পরই পাহাড় জুড়ে মোর্চার তাণ্ডব। গোর্খাল্যান্ড নিয়ে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়াতে হিংসার পথে মোর্চা। রাম্মাম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র লাগোয়া এলাকার ১০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ মোর্চা সমর্থকদের। বন্ধ করে দেওয়া হল জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মোর্চা জানিয়েছে তারা এবার আত্মহুতির পথে যাবে।
[কেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতা? মোর্চার হাবভাবে সন্দিহান পাহাড়ের অন্য দলগুলি]
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। বিকল্প হিসাবে পাহাড় জুড়ে বিমল গুরুংয়ের বক্তব্যের সিডি বিতরণ করেছে মোর্চা। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে অনুগামীদের ভোকাল টনিক দেন মোর্চা সুপ্রিমো। তার কথা মতো রাস্তায় নেমে পড়ল মোর্চা কর্মীরাও। শনিবার রাতে রাম্মাম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে ষাটবোট এলাকায় প্রায় চারশো কর্মী তাণ্ডব চালায়। এনটিপিসির ১০টি গাড়ি তারা পুড়িয়ে দেয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা যন্ত্রপাতিতেও করা হয় অগ্নিসংযোগ। রাম্মামে নির্মীয়মান বিদ্যুৎকেন্দ্র মোর্চা কর্মীদের হুমকিতে বন্ধ হয়ে যায়। এই কেন্দ্রে দৈনিক ৫০ লক্ষ টাকার জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। মোর্চার গা জোয়ারিতে পাহাড়ে আরও যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে সেখানেও উৎপাদনে ক্ষতি হচ্ছে। অস্থায়ী কর্মীরা এবং গাড়িচালকরা না আসায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজও বন্ধ। তিস্তার ওপর কালিঝোরায় এনএইচপিসির বড় প্রজেক্ট রয়েছে। সেখানে কোনওমতে কাজ চলছে। রম্ভি এবং কালিঝোরার উৎপাদন চললেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি থেকে রোজ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। যে বিদ্যুৎ সেন্ট্রাল গ্রিডের মাধ্যমে রাজ্যে সরবরাহ হয়। অচলাবস্থা কাটাতে রবিবার রাতে এক প্ল্যাটুন কেন্দ্রীয় বাহিনী ষাটবোট এলাকায় যায়। এসএসবির জওয়ানরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কড়া নিরাপত্তায় রাম্মামের প্রজেক্ট ম্যানেজারকে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের ধারণা সোমবার বিকেলের দিকে ফের উৎপাদন শুরু হবে। এদিকে, মোর্চার তাণ্ডব নিয়ে মুখ খুলেছেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক জয়শী দাশগুপ্ত। জেলাশাসকের বক্তব্য, এই নিয়ে তিনি রিপোর্ট পেয়েছেন। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩০-৩৫ জনের নামে এফআইআরও করা হয়েছে। প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, কালিম্পংয়ের আলগাড়ায় ময়রুং বস্তিতে পুলিশের টহলদারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় মোর্চা। সোমবার কার্শিয়াংয়ের তিনধারিয়া পুলিশের গাড়ি পোড়ায় মোর্চা সমর্থকরা। প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুব মোর্চা। মোর্চার এই শাখা সংগঠনের সভাপতি প্রকাশ গুরুং জানিয়েছেেন তারা এবার আত্মাহুতির আন্দোলনের পথে যাচ্ছেন। অর্থাৎ গায়ে আগুন লাগাবেন মোর্চা সমর্থকরা। ২০১৩ সালে বনধের সময় এক মোর্চা সমর্থক গায়ে আগুন লাগিয়েছিলেন। যা নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। গোর্খাল্যান্ড আদায়ে এবার সেই পথেই হাঁটতে চাইছে মোর্চা। পাশাপাশি তারা আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে ও পরে তারা এই কর্মসূচি নিতে চলেছে।
[বাংলার একতা কেউ ভাঙতে পারবে না, ইদে বার্তা মমতার]
মঙ্গলবার জিটিএ চুক্তি পোড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছে মোর্চা। ২৯ জুন তাদের ডাকে সর্বদল বৈঠক। বিশেষজ্ঞদের ধারণা গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে অন্য দলগুলি চাপ বাড়াতে থাকায় কর্মীদের তাতাতে হিংসার কানাগলিতেই ঢুকতে বাধ্য হল মোর্চা। আন্দোলনের রাশ হাতে রাখতে গিয়ে বিমল গুরুংয়ের এই চাল কতটা ফলপ্রসু হয়, তা নিয়ে পাহাড়জুড়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
(ছবি প্রতীকী)