সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বসিরহাট-বাদুড়িয়ায় অশান্তিতে ইন্ধন দিলে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। মমতার সবুজ সংকেত পেতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক নজরদারি। একটি ভোজপুরি সিনেমার স্থিরচিত্রকে বাংলায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের ছবি বলে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের নাম ভবতোষ চট্টোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই অভিযুক্তকে শনিবার আদালতে পেশ করা হলে তাকে ১১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
[বিজেপি নেত্রীর কীর্তি, বসিরহাটে অশান্তি ছড়াতে হাতিয়ার ভোজপুরি সিনেমার দৃশ্য]
বসিরহাটে অশান্তি রুখতে প্রথম থেকেই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশের তরফে বারবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানানো হয়েছে, কোনওরকম গুজব না ছড়াতে বা গুজবে কান না দিতে। কারণ, একটি আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট থেকেই বসিরহাটে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। ফেসবুককে ব্যবহার করে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। আজই নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ফেসবুকের নামে এক শ্রেণির মানুষ ‘ফেকবুক’ চালাচ্ছে। তবে রাজ্যের মানুষ কোনওরকম প্ররোচনায় পা না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যারাই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে খবর, বসিরহাটের পরিস্থিতিকে আরও ঘোরাল করে তুলতে গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুকে নানা আপত্তিজনক ছবি আপলোড করে গুজব ছড়াচ্ছে এক শ্রেণির দুষ্কৃতী। বাংলাদেশের কুমিল্লার ছবিকে বাংলায় হিন্দুদের উপর নির্যাতন বলে চালানোর অভিযোগ উঠছে। ভোজপুরি সিনেমার দৃশ্যকে বাংলায় মহিলাদের উপর নির্যাতন বলে চালানোর চেষ্টার খবর গতকালই ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’-এ প্রকাশিত হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গ্রেপ্তার করা হয় ভবতোষ চট্টোপাধ্যায়কে। তার বিরুদ্ধে বাদুড়িয়ায় অশান্তিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
[বসিরহাটে অশান্তির নেপথ্যে কারা, জানতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ মমতার]