সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যা, মৃত্যুমিছিল। তারপরও মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার বলে চলেছে, সব ঠিক আছে। এটা যে স্রেফ কথার কথা, তা আরও একবার স্পষ্ট হল। কৃষকদের দুর্দশার ছবি এবার দেখা গেল মধ্যপ্রদেশের সেহর জেলায়। বলদ কেনার মতো সামর্থ না থাকায় এক কৃষক নিজের দুই মেয়েকে লাঙল টানাতে নামালেন। লজ্জার এই ছবি নিয়ে শোরগোল হওয়ার পর ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা দায় এড়াতে চাইছে।
মান্দসৌরের ঘটনা এখন অতীত হয়নি। মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের দুর্দশা কোন জায়গায় পৌঁছেছে তা তুলে ধরেছিলেন মান্দসৌরের কৃষকরা। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে টাকা ফেরত দিতে না পারায় অনেকেই মৃত্যুর দিন গুনছেন। মান্দসৌর লাগোয়া সেহর জেলার অবস্থাও একইরকম। এই জেলার বসন্তপুর পাংড়ি গ্রামের ছবি দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকে। বসন্তপুরের সরদার কালার ঋণের জালে বন্দি। টাকার অভাবে তাঁর দুই মেয়ের পড়াশোনার মাঝপথে ইতি পড়েছে। মোষ কিনে যে জমিতে লাঙল দেবেন তার উপায় নেই। তাই একান্ত বাধ্য হয়ে দুই বোনকে জমিতে নামিয়ে দেন। সরদারের হাতে থাকে লাঙল। আর মোষের জায়গায় ব্যবহার করেন দুই মেয়ে রাধিকা এবং কুন্তিকে। সরদার জানিয়েছে খারাপ লাগলেও, এই কাজ করতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। ১৪ বছরের রাধিকা এবং ১১ বছরের কুন্তী স্কুল ছাড়ার জন্য কষ্ট পেলেও, পরিবারের কথা ভেবে জমিতে মোষের ভূমিকা নিয়েছে।
Don’t have enough money to buy oxen, ploughing fields to sow of maize crop. Daughter left studies after 8th standard: Sardar Barela, farmer pic.twitter.com/ofsRIa0DsA
— ANI (@ANI_news) 9 July 2017
এই ছবি কৃষকদের আন্দোলনে ল্যাজেগোবরে থাকা শিবরাজ সিং চৌহানের সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। মুখরক্ষায় জেলা জনসংযোগ আধিকারিক আশিস শর্মা জানিয়েছেন, প্রশাসন ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দুঃস্থ কৃষককে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা হচ্ছে। মেয়েদের চাষের জমিতে না জানানোর জন্য সরকারি আধিকারিকরা সরদারের কাছে অনুরোধ করেছেন। ফসলের দাম না পেয়ে গত ৬ মাসে বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে ৫০ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। মান্দসৌর ছিল অশান্তির কেন্দ্র। ঋণ মকুবের দাবিতে কৃষকদের আন্দোলন হিংসার চেহারা নিয়েছিল। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল ৬ কৃষকের। বেশ কিছু দিন জারি ছিল ১৪৪ ধারা। সেহরের বসন্তপুর পাংড়ি গ্রামের এই ছবি বুঝিয়ে দিল জয় জওয়ান, জয় কিষাণ বা বেটি বাঁচাও স্লোগান স্রেফ সরকারি পোস্টারে সীমাবদ্ধ।