সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “মুসলিম তোষণ করতে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” এমনই তীব্র ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই বিজেপি নেতার অভিযোগ ধর্মের নামে রাজনীতি করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শুধুমাত্র ‘ভোটব্যাঙ্ক’ বজায় রাখতে ইসলামি মৌলবাদীদের সমর্থন দিয়ে হিন্দুদের উপর অত্যাচার করছেন তিনি।
Mamata Banerjee is torturing Hindus to appease the Muslims: Dr Sambit Patra, BJP #HatekilledKartik pic.twitter.com/5I0yPqQdln
Advertisement— TIMES NOW (@TimesNow) July 12, 2017
‘ধুলাগড় থেকে শুরু করে বসিরহাট। পশ্চিমবঙ্গে সর্বত্রই হামলার শিকার হচ্ছে হিন্দুরা। তবে প্রশাসন নিশ্চুপ দর্শক মাত্র। হিন্দুদের জন্য বিন্দুমাত্র মমতা নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের’। এভাবেই কড়া ভাষায় তোপ দেগেছেন বিজেপি মুখপাত্র। তবে এতেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতার জন্য দেশকে বিক্রি করে দিতে পারে মমতা সরকার। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ‘রামধনু’ ও ‘নীল’ রংকে ধর্মীয় আবরণে মুড়ে ফেলা হয়েছে। আর এসব করা হচ্ছে শুধুমাত্র ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটকে কবজা করার জন্য।
উল্লেখ্য, গো-রক্ষকদের ক্রমবর্ধমান তাণ্ডবে চাপের মুখে পড়েছে বিজেপি। দেশের একাধিক জায়গায় গো-রক্ষা জিগিরে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। ওই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে বিরোধীরা। তারই প্রেক্ষিতে দিল্লির এক অনুষ্ঠানে গো-হত্যা বিরোধী অভিযান নিয়েও মন্তব্য করেন সম্বিত পাত্র। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যে সাধন করতে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে কয়েকটি ‘বিশেষ’ দল। ‘অসহিষ্ণুতা’ ও ‘গণপিটুনি’র মতো ইস্যু ওই চক্রান্তের অংশ মাত্র।
[ফের অশান্তি পাহাড়ে, সুকনা ও ম্যালে সরকারি ভবনে আগুন]
প্রসঙ্গত, জিএসটি থেকে শুরু করে বসিরহাট অশান্তি নিয়ে চরমে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত। আঘাত-প্রত্যাঘাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। কয়েকদিন আগেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চরমে পৌঁছয় রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর তরজা। বাধ্য হয়ে দু’জনকেই পদমর্যাদার সম্মান বজায় রাখার পরামর্শ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তবে যাই হোক না কেন পশ্চিমবঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ‘হিন্দুত্ব কার্ড’ খেলছে বিজেপি বলে মত একাংশের, তেমনই সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার জন্য মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে না রাজ্য সরকার বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকেই।
[দিঘার হোটেলে নেওয়া যাবে না অতিরিক্ত ভাড়া, চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর]