সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের ১৪ তম রাষ্ট্রপতি কে? এর উত্তর খুঁজতে আজ সকাল দশটা থেকে শুরু নির্বাচন। দেশের ৪৮৫২ জন সাংসদ ও বিধায়কের ভোট রামনাথ কোবিন্দ নাকি মীরা কুমার, কার দিকে যাবে তা নিয়ে চলছে জল্পনা। তবে সংখ্যার নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে এনডিএ মনোনীত প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ। মীরা কুমারকে সামনে রেখে বিরোধীরাও লড়াই দিতে তৈরি। ভোটের মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান রামনাথ কোবিন্দের জেতার ব্যাপারে তিনি আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কথায়, এই লড়াই মতাদর্শের। লড়াই হবে সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে।
[রামনাথ কোবিন্দ রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী, প্রথম কে আঁচ করেছিলেন জানেন?]
মোট ভোট ১০,৯৮,৯০৩। ম্যাজিক ফিগার ৫,৪৯,৪৪২। এই ভোট যিনি পাবেন পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তিনিই হবেন রাইসিনা হিলের বাসিন্দা। দেশের প্রথম নাগরিক হওয়ার দৌড়ে মূল লড়াই রামনাথ কোবিন্দ ও মীরা কুমারের মধ্যে। দেশের ৪০৭৮ জন বিধায়ক এবং ৫৭৪ জন সাংসদ এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। অঙ্কের হিসাবে এনডিএ মনোনীত কোবিন্দ প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোবিন্দকে প্রার্থী করার পর বেশ কিছু অবিজেপি দল দলিত প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নীতীশ কুমারের জেডিইউ, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, এডিএমকে, বিজেডি, টিআরএস, টিডিপি। বিরোধীরা মীরা কুমারকে প্রার্থী করায় লড়াইটা দলিত বনাম দলিতের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোবিন্দ জিতলে তিনিই হবেন দেশের দ্বিতীয় দলিত রাষ্ট্রপতি। ভোটের আগে কোবিন্দকে অক্সিজেন জুগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদি এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে আগে-ভাগে মনোনীত প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন কোবিন্দের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন। দেশের ৪০টি রাজনৈতিক দলকে কোবিন্দকে সমর্থন করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চুপ করে নেই বিরোধীরাও। ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বুঝিয়ে দিয়েছেন লড়াই একপেশে হবে না। সোনিয়া জানিয়েছেন, লড়াই মতাদর্শের। সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে যু্দ্ধ চলবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন সোনিয়া। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। দেশের ৩২টি কেন্দ্রে নেওয়া হবে ভোট। ২টি আলাদা রঙের ব্যালট পেপারে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কলমে ভোট দিতে হবে। ২০ জুলাই ফল ঘোষণা। ২৪ জুলাই দেশের চর্তুদশ রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন।
[রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মীরার মনোনয়নে বিরোধী ঐক্য অটুট]
৭১ বছরের কোবিন্দ বিহারের রাজ্যপালের দায়িত্ব ছিলেন। দুবার রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অন্যদিকে ৭২ বছরের মীরা কুমার লোকসভার স্পিকারের দায়িত্ব সামলেছেন। মন্ত্রিত্বের পাশপাশি ৫ বার লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন জগজীবন রামের কন্যা মীরা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ বিধায়ক এবং ৪২ জন সাংসদ। ২৮৮ জন বিধায়কের ভোট পড়ার কথা মীরা কুমারের বাক্সে। এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভার বাদল অধিবেশন।