নন্দন দত্ত, বীরভূম: এক শ্রেণি। অথচ ছাত্র ও ছাত্রীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করবে না। আলাদা দিনে ক্লাস করতে হবে ছেলে ও মেয়েদের। বীরভূমের খয়রাশোলের বড়রা হাইস্কুলের এই আজব নিদানে শোরগোল পড়েছিল। এক শ্রেণির উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রদের বাগে আনতে এমন সিদ্ধান্ত বলে সাফাই দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে হইচই হওয়ার পর অবশেষে পিছু হটল স্কুল কর্তৃপক্ষ। পড়ুয়ারা যাতে ৬ দিন ক্লাস করতে পারে এর জন্য জেলার স্কুল পরিদর্শক প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। তার ফলে সোমবার থেকে আবার একসঙ্গে ক্লাস শুরু হল বড়রা হাইস্কুলে।
[বাড়বাড়ন্ত ইভটিজিংয়ের, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় আজব নিদান এই স্কুলের]
ক্লাসরুমে বসে মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও দেখা। ছাত্রীদের উত্যক্ত করা। বীরভূমের বড়রা হাইস্কুলের ক্লাস ইলেভেন ও টুয়েলভের ছাত্রদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বেশ কিছু দিন ধরে উঠছিল। শাস্তি দিয়েও তাদের শোধরাতে পারেননি শিক্ষকরা। ছেলেদের বদভ্যাস ছাড়াতে না পেরে বিচিত্র সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয় তিন দিন ছেলেরা ক্লাস করবে। তিন দিন মেয়েরা। একসঙ্গে কোনওভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করা যাবে না। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ক্লাস করে কীভাবে সিলেবাসে শেষ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পড়ুয়ারা। আজব সিদ্ধান্ত ঘিরে হইচই পড়ে যায়। এই খবর সামনে আসার পর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কথা বলেন বীরভূম জেলা স্কুল পরিদর্শকের সঙ্গে। স্কুলে ছেলেমেয়েরা যাতে একসঙ্গে পড়াশোনা করতে পারে, তার জন্য পর্ষদ সভাপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিদর্শক রেজাউল হক এই নিয়ে কথা বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন অধিকারীর সঙ্গে। শনিবার আলোচনায় ঠিক হয় সোমবার থেকে ফের একসঙ্গে পড়াশোনা করবে ছাত্রছাত্রীরা। তবে এবার বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা ক্লাসরুমে মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবে না বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে। প্রায় ২ সপ্তাহ অচলাবস্থা চলার পর টানা ক্লাস শুরু হওয়ায় খুশি পড়ুয়ারা। জেলা স্কুল পরিদর্শক রেজাউল হক জানিয়েছেন, স্কুলের কী পরিস্থিতি তা জানতে তিনি খয়রাশোলে যাবেন। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলবেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ক্লাসরুমে বসার সমস্যা রয়েছে। গাদাগাদি করে পড়ুয়াদের বসতে হয়। এই অসুবিধা সত্ত্বেও ছেলেমেয়েদর স্বার্থে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

[মধ্যপ্রদেশে শৌচাগার তৈরি নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের বিবাদ চরমে, বিপাকে প্রশাসন]
ঝাড়খণ্ড সীমানা ঘেঁষা বীরভূমের এই স্কুল প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো। স্কুলের ইতিহাসে প্রথম এমন কোনও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ১৫ দিন সপ্তাহে তিন দিন করে ক্লাস চলার পর ফের পুরনো অবস্থায় ক্লাস চালু হওয়ায অভিভাবকদের উদ্বেগ কেটেছে।