সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আসানসোলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর চাপালেন কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে বিরোধী দলনেতার বেপরোয়া মনোভাবের জন্য বিচারপতি রাজশেখর মান্থার দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন তিনি। খোঁচা দিলেন ১৪ ডিসেম্বর ডেডলাইন নিয়েও। সবমিলিয়ে আসানসোলের কম্বল বিতরণের অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘিরে অস্বস্তিতে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারির দাবি, সভার বিষয় পুলিশকে জানানো হয়েছিল।
আসানসোলের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে তৃণমূলের মুখপাত্রর অভিযোগ, পুলিশের অনুমতি ছাড়া সভার আয়োজন করেছিলেন শুভেন্দু। পুলিশ থাকলে এধরনের ঘটনা হয়তো ঘটত না, মত তৃণমূল মুখপাত্রের। তাঁর কথায়, “কম্বল দেওয়ার নাম করে গরিব মানুষদের ডেকে আনা হয়েছিল। সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে নিরাপরাধ তিনজনের। এর দায় সম্পূর্ণভাবে শুভেন্দুর।”
[আরও পড়ুন: শুভেন্দু অধিকারীর অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা! পদপিষ্ট হয়ে মৃত অন্তত ৩, জখম আরও ৭]
শুভেন্দু অধিকারীর বেপরোয়া মনোভাব, পুলিশকে অগ্রাহ্য় করার প্রবণতার জন্য বিচারপতি রাজশেখর মান্থার দিকেও আঙুল তুলেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর কথায়, “শুভেন্দুকে এমন আইন ভাঙার, আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকারটা কে দিচ্ছে? ওর বিরুদ্ধে এফআইআর করা যাবে না, কে বলছে? বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। ওকে (শুভেন্দু) রক্ষাকবচ দিয়ে রেখেছেন। সে তো নিজে ভাবছে যা ইচ্ছে করব। তাই পুলিশকে না জানিয়ে এত বড় সভার আয়োজন করছে। মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? শুভেন্দু, বিজেপি নাকি রক্ষাকবচের পর রক্ষাকবচ দিয়ে শুভেন্দুর মধ্যে এই বেপরোয়া ভাব তৈরি করা রাজাশেখর মান্থা? তাঁকেই বা কেন দায়ী করা হবে না, সেটা ভেবে দেখা দরকার।”
শুভেন্দুর ডিসেম্বর তত্ত্ব নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন কুণাল। বলেন, ” ও বলেছিল ১২ ডিসেম্বর। সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের রহস্যমৃত্যু হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর আবার আসানসোলে এই ঘটনা ঘটল। এটাই কি বলতে চেয়েছিল বিরোধী দলনেতা?” কিন্তু যাঁর উদ্দেশে এত প্রশ্ন, সেই শুভেন্দু অধিকারীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৈতালি তেওয়ারির স্বামী জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, “মৃত্যু দুঃখজনক। কাউকে দায়ী করতে চাই না। তবে পুলিশ অনুষ্ঠানের কথা জানত।”