স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: গ্রামের রাস্তায় চা-মিষ্টির দোকান। আর তার আড়ালেই চলছিল অস্ত্র কারখানা! তবে শেষরক্ষা হল না। স্বাধীনতা দিবসের সাতসকালেই সেই বাড়িতে হানা দিয়ে বড়সড় অস্ত্র কারখানার হদিশ পায় পুলিশ। উদ্ধার হয় প্রচুর বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম। অস্ত্র তৈরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে ভিন রাজ্য থেকে আসা অস্ত্র তৈরির ছ’জন কারিগর। বাড়ির মালিক ওই মিষ্টির দোকানদারকেও পুলিশ গ্রেপতার করেছে। ঘটনা মালদহের সেই কালিয়াচকেরই। যেখানে অস্ত্র ও বোমা তৈরির ঘটনা নতুন নয়।
পুলিশের তল্লাশিতে কখনও হদিশ মিলছে বোমা কারখানার, কখনও আবার উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্রভাণ্ডার। কালিয়াচকের ঘরে ঘরেই যে অস্ত্র ও বোমা তৈরির কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে, সেই সন্দেহটা এই ঘটনায় ফের প্রমাণিত হল বলে দাবি পুলিশের একাংশের।
[বাগুইআটিতে বিমান সেবিকার রহস্যমৃত্যু, আটক বান্ধবী-সহ ২]
কালিয়াচকের নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দেবীপুর গ্রাম। একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে ইটের পাকা একতলা একটি বাড়ি। অসম্পূর্ণ কাঠামো। জানলা দরজাও নেই। চারদিকে গাছগাছালি। গ্রামের শেষ প্রান্ত হলেও নির্জন নয়। গোটা পাড়ায় দশ-বারোটি পরিবারের বাস। কিছুটা দূরেই রেল লাইন। সেই বাড়িতে সপরিবার থাকে লুৎফুর হক নামের এক ছোটখাটো ব্যবসায়ী। তার একটি চা-মিষ্টির দোকান রয়েছে গ্রামেই। আর এই লুৎফুরের বাড়িতে হানা দিয়েই চক্ষু চড়কগাছ জেলা পুলিশের কর্তাদের। রীতিমতো বড়সড় কারখানা। যেখানে শুধু বন্দুক, পাইপগান, রিভলভার, রাইফেল ও ম্যাগাজিন তৈরির কাজ চলছিল। বাড়িতে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছে। ফলে দু-তিন মাস ধরে কারখানা চললেও গ্রামবসীদের কেউ টের পাননি। এমনটাই দাবি পড়শিদের। এই নওদা যদুপুর এলাকার কুখ্যাত দুস্কৃতী বকুল ও জাকির শেখরা প্রায় এক বছর ধরে জেল হাজতে রয়েছে। তারপরও কী করে কাদের মদতে এই এলাকায় অস্ত্র কারখানা চলছিল, এই বিষয়টি পুলিশকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, স্বাধীনতা দিবসের ভোরে গোপন সূত্রের একটি খবরের ভিত্তিতে মালদহ জেলা পুলিশের একটি দল ও কালিয়াচক থানার পুলিশ যৌথ ভাবে লুৎফুর হকের বাড়িতে হানা দিয়ে তল্লাশি চালায়। তখনও অস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল। পুলিশ হাতেনাতে গ্রেপতার করে অস্ত্র তৈরির ছয় কারিগরকে। ধৃতরা হল মাবুল শেখ, মহাম্মদ সাহিদ, মহাম্মদ মোর্তজা, মহাম্মদ আকবর, মহম্মদ কারিমুদ্দিন ও মহাম্মদ মাহবুব। এদের বাড়ি বিহারের মুঙ্গের জেলায়। মালদহের জেলা পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে পাওয়া একটি খবরের ভিত্তিতে দেবীপুর গ্রামে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে। একটি বাড়িতে অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া যায়। মোট ৪৮টি নাইন ও সেভেন এমএম রিভলভার, ১৫০টি ম্যাগাজিন, ৫০ হাজার টাকার জাল নোট ও অস্ত্র তৈরির যাবতীয় সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। বাড়ির মালিক-সহ মোট সাতজন ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি বিহারের মুঙ্গের জেলায়। পুলিশ ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করে অস্ত্র কারখানার বিষয়ে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাড়ি ভাড়া নিয়েই কি মুঙ্গেরের কারিগররা কালিয়াচকে কারখানা খুলেছিল? প্রশ্ন পুলিশেরই। ধৃতদের মঙ্গলবার ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
[লজ্জা! স্বাধীনতা দিবসেই কালিমালিপ্ত নেতাজির মূর্তি]
সর্বশেষ খবর
-
আপনার এই মাস এপ্রিল ২০২৬, মকর রাশি
-
কোথায় রাখবে এত লজ্জা! টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের কাছে অষ্টমবার হার পাকিস্তানের
-
আইপ্যাক অভিযানে কারা? পরিচয় জানতে ইডিকে চিঠি দিচ্ছে লালবাজার, শুরু CRPF-দের শনাক্তকরণও
-
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আচমকা দুঃসংবাদ, অনুশীলনে চোট পেলেন পন্থ
-
বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশে ভোট পড়েছে ৫৭.৭ শতাংশ, এগিয়ে বাংলা, জানাল কমিশন