অরূপ বসাক, মালবাজার: খুন হয়েছেন স্বামী। অনেক কাজ এখনও রয়েছে অর্ধসমাপ্ত। এবার স্বামীর শেষ না করে যাওয়া কাজ এবং তাঁর স্বপ্নপূরণ করতে রাজনীতির ময়দানে স্ত্রী। শুনতে অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্য বলে মনে হতে পারে। তবে বাস্তবে এমন ঘটনার সাক্ষী জলপাইগুড়ির মালবাজারের মেটেলি। পাঁচ মাস আগে খুন হন নাগেশ্বরী চা বাগানের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য জগৎপাল বড়াইক। আর সেই আসনেই তৃণমূলের হয়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ প্রয়াত জগৎপালের স্ত্রী সুনীতা বড়াইক। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেন তিনি।
মাসপাঁচেক আগেই ঘটেছিল অঘটন। বন্ধুদের সঙ্গে বিয়েবাড়িতে গিয়ে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। তিনদিন পর এলাকার এক পরিত্যক্ত কুয়ো থেক উদ্ধার হয় মেটেলি ব্লকের নাগেশ্বরী চা বাগানের পঞ্চায়েত সদস্য জগৎপাল বড়াইকের দেহ। পরিবারের দাবি, খুন করা হয় তাঁকে। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন স্ত্রী সুনীতা। তবে সেই সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। পঞ্চায়েত সদস্য থাকাকালীন এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করেছিলেন জগৎপাল। তবে ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিয়াসে সব কাজ শেষ করতে পারেননি। একদিকে স্বামী হারানোর যন্ত্রণা। অন্যদিকে তাঁর অর্ধসমাপ্ত কাজগুলি সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। সবমিলিয়ে রাজনীতির ময়দানে জগৎপালের স্ত্রী।
[আরও পড়ুন: সারা রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কমিশনকে নির্দেশ হাই কোর্টের]
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সুনীতা জানান, “স্বামীর অনেক স্বপ্ন ছিল। এলাকা সাজিয়ে তোলার জন্য একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। স্বপ্ন বাস্তব রূপ দেওয়ার আগেই তাঁকে খুন হতে হয়। তাই স্বামীর স্বপ্নই এখন আমি পূরণ করব।” ভোটে (Panchayat Vote 2023) লড়ার সুযোগ দেওয়ার তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে ধন্যবাদও জানান। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, “সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সম্ভব। এই দল সব সময় মানুষের পাশে থাকে। তাই তো দুর্দিনেও স্বামীহারা সুনীতার পাশে রয়েছে তৃণমূল। স্বামীর অর্ধসমাপ্ত কাজ যাতে স্ত্রী করতে পারেন, সেজন্য তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।”