অর্ণব দাস, বারাসত: হাঁড়ি আলাদা হয়েছে আগেই। তবে, অভাবের সংসারে একে-অপরের পাশ থেকে কখনও সরে আসেননি দুই ভাই। বিপদে-আপদে দাঁড়িয়েছেন পরস্পরের পাশে। কিন্তু, এবার তাঁরা দাঁড়াতে চলেছেন একে অপরের বিপক্ষে। সংসারের ময়দানে নয়, রাজনীতির ময়দানে। আরও ভালভাবে বলতে গেলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে।
হাবড়া ২ ব্লকের ভুরকুণ্ডা পঞ্চায়েতের মাটি পরিবার। পরিবারের বড় ছেলে সুদেব মাটি এলাকার ৩১ নম্বর বুথের বিজেপি প্রার্থী। ছোট ভাই মহাদেব মাটি হয়েছেন একই বুথের তৃণমূল প্রার্থী। একই পরিবারের দুই ভাইয়ের দুই শিবিরের হয়ে লড়ার খবরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। চলছে তুমুল চর্চা।
[আরও পড়ুন: ভিকি-ক্যাটরিনার সংসারে ভাঙন? ঝগড়া-ফোন ভাঙা! ভাইরাল টুইটে জল্পনা তুঙ্গে]
ভুরকুণ্ডা গ্রামে পাশাপাশি দুই বাড়িতে থাকেন দুই ভাই। ছোট ভাই মহাদেব পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। আগাগোড়াই তিনি তৃণমূল করেন। ভুরকুণ্ডা পঞ্চায়েতের ৩১ নম্বর বুথের তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদকও তিনি। এবছরই প্রথম তিনি শাসকদলের গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী হয়েছেন। তার দাদা সুদেব মাটি পেশায় দিনমজুর। ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়ে ভোট ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তিনি। একই দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন দুই ভাই।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Bengal Panchayat Election) ভুরকুণ্ডা পঞ্চায়েতের ২৬টি আসনের মধ্যে ২২টি ছিল তৃণমূলের দখলে। ৩১ নম্বর বুথটিও ছিল শাসকদলের দখলে। এবছর আসন সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭। এবছরও ওই আসনটিতে তৃণমূলেরই পাল্লা ভারী। যদিও গ্রামবাসীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও তাঁরা দুই ভাইয়ের ভোট যুদ্ধ বেশ উপভোগ করছেন। দুই ভাই প্রচারও শুরু করেছেন। তৃণমূল প্রার্থী মহাদেব মাটি বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে আমি গ্রামে রাজনীতি করছি। মানুষের সঙ্গে মেলামেশার সুবাদে আমি নিশ্চিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবেন গ্রামবাসীরা।’’ বিজেপি প্রার্থী সুদেব মাটি বলেন, ‘‘তৃণমূল আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ আমাকেই জয়ী করবে।’’
দেখুন ভিডিও: