সৌরভ মাজি ও অর্ণব দাস: রাজ্যের দু’প্রান্তে আক্রান্ত সিপিএম ও আইএসএফ প্রার্থীরা। পঞ্চায়েত ভোটে (Panchayat Election 2023) মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ভোরবেলায় সিপিএম প্রার্থীর বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। আবার দেগঙ্গায় আইএসএফ প্রার্থীর বাড়ির সামনে রাতের অন্ধকারে তাজা বোমা রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে। দুই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ভোরবেলায় সিপিএম প্রার্থীর বাড়িতে বোমাবাজির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। দু’টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জামালপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর মোহনপুর গ্রামের পূর্ব দোলোরডাঙা বুথের সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন সুশান্ত দেবনাথ। তাঁর স্ত্রী দেবিকা দেবনাথ জামালপুর হাটতলার বুথের বাম প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, রবিবার ভোরে আচমকা বোমার শব্দ হয় তাঁদের বাড়ির ভিতরে। দরজা খুলে বাইরে এসে দেখেন চারিদিকে আগুনের ফুলকি পড়ে রয়েছে। বোমার টুকরো টুকরো অংশ পড়ে জ্বলছে। দরজার সামনে আরও দুটো তাজা বোমাও পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বকে ঘটনার কথা জানান। খবর দেওয়া হয় জামালপুর থানাতেও।
[আরও পড়ুন: মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য, ১০ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত দেবযানী]
সুশান্ত মণ্ডল বলেন, “মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই আমাদের হুমকি দিচ্ছিল তৃণমূলের লোকজন। আমার ভাইয়ের ফুচকার দোকান বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আবার সেটা চালু করেছি। আমাদের ভয় দেখিয়ে কাজ হয়নি। তাই এবার বাড়িতে বোমা মেরেছে। আমরা নিশ্চিত এলাকার তৃণমূল নেতা দেবু সেনগুপ্ত, তৃণমূলের বুথ সভাপতি তারক বিশ্বাসরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।” দেবিকা দেবনাথও একই দাবি করেছেন। এলাকার সিপিএম নেতা দেবাশিস মালিক বলেছেন, “ঘটনায় প্রকৃত দোষীরা শাস্তিপাক। প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিক।” ঘটনার পর থেকে তৃণমূলের দেবু সেনগুপ্ত ও তারক বিশ্বাসরা এলাকাছাড়া বলে জানা গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মেহমুদ খান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, “এরকম কোনও ঘটনা ঘটতে পারে না। তৃণমূল এধরনের রাজনীতি করে না। এটা বিরোধীদের কাজ। তৃণমূলকে বদনাম করতে এটা ষড়যন্ত্র।” বর্ধমান সদর দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, “বোমাবাজির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। দুটি বোমা উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি নিস্ক্রিয় করা হবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে দেগঙ্গায় আইএসএফ প্রার্থীর বাড়ির সামনে রাতের অন্ধকারে তাজা বোমা রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনাই সাতসকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেগঙ্গার হাদিপুর ঝিকরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯ নম্বর বুথে। ১১৯ নম্বর বুথে আইএসএফের প্রার্থী হয়েছেন আবদুল্লাহ মণ্ডল। অভিযোগ, তিনি সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর বাড়ির দরজার সামনে তাজা বোমা পড়ে রয়েছে। তবে বোমাটি ফাটেনি। এরপর গ্রামবাসীদের খবর দেন। খবর দেওয়া হয় দেগঙ্গা থানার পুলিশকে। পুলিশ এসে বোমাটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। হাদিপুর ঝিকরা এক নম্বর অঞ্চলের আইএসএফেএর সভাপতি মহম্মদ তরিকুল জানান, “আবদুল্লাহকে প্রার্থী করায় শাসকদলের পক্ষ থেকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হবে। আমরা বোমাগুলির ভয় পাই না। এর বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নিক।”আইএসএফের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক শিবির। শান্ত এলাকায় নিজেরা বোমা রেখে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।