সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত প্রাক্তন ফুটবলার চন্দন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। ছ’য়ের দশকে ময়দানের পরিচিত নাম ছিলেন চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। লাল-হলুদের বহু যুদ্ধের নায়কের প্রয়াণে শোকসন্তপ্ত ময়দান।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক। এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বুধবার হাসপাতালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। অসুস্থতার মাঝে সেই হার্ট অ্যাটাকের ধাক্কা সামলাতে পারেননি লাল-হলুদ কিংবদন্তি। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
[আরও পড়ুন: এবারের বিশ্বকাপই কি শেষ বিরাট-রোহিতদের? সৌরভ বললেন…]
শিক্ষিত পরিবারের ছেলে চন্দন ছোট থেকেই ইস্টবেঙ্গলপ্রেমী ছিলেন। লাল-হলুদে খেলার স্বপ্ন নিয়েই ১৯৫৪ সালে মিলন সমিতিতে সই করেন। পরের বছরই তাঁকে সই করায় ভবানীপুর ক্লাব। ভবানীপুর থেকে যান জর্জ টেলিগ্রাফে। জর্জে খেলাকালীনই একবার শেষ ম্যাচে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নজর কাড়েন চন্দন। লিগের শেষ ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্সের জেরেই ম্যাচ জিতে যায় জর্জ। আর জর্জের জয়ে লিগ চলে যায় ইস্টবেঙ্গলে। সেবারে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তাঁকে কাঁধে করে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে চন্দনের ইস্টবেঙ্গলে খেলার স্বপ্ন পূরণ হয় ৬৩ সালে। ১৯৬৬ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক হন। সেবারে মহামেডানের সঙ্গে পরপর চারটে ম্যাচ ড্র করে লাল-হলুদ। পঞ্চম ম্যাচে আবারও চন্দনের অনবদ্য পারফরম্যান্সে সাদা-কালো ব্রিগেডকে হারায় ইস্টবেঙ্গল। তখনও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা তাঁকে কোলে করে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। আসলে পাঁচ-ছ’য়ের দশকে ময়দানের বহু যুদ্ধের নায়ক শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল অন্তপ্রাণ ছিলেন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কথা উঠলেই সবসময়ই বলতেন, “আমার ইস্টবেঙ্গল, ইস্টবেঙ্গলের আমি।” তাঁর প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
[আরও পড়ুন: খাস কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় দুর্ঘটনা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর ৮ গাড়িতে ধাক্কা যাত্রীবোঝাই বাসের]
ক্লাবের তরফে তাঁর আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছেI জানা গিয়েছে শেষকৃত্যের আগে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) তাঁবুতে তাঁর চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে সমর্থকরা তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।