সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: রাজ্যের সংখ্যালঘু মন বদলাচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোটাররা তৃণমূলের উপর থেকে আস্থা সম্পূর্ণরূপে হারিয়েছেন। এই ‘মিথ’ যে পুরোপুরি সত্যি নয় সেটা পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে বুঝিয়ে দিল শাসকদল। রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে অবিসংবাদীভাবে প্রথম স্থানে থাকবে তৃণমূলই। আবার এটাও সত্যি এই দুই জেলায় তৃণমূল (TMC) বিধানসভা নির্বাচনে যে দাপট দেখিয়েছিল, সেই দাপটও আর দেখা যাচ্ছে না। বরং একাধিক ব্লকে শাসকদলকে ভালরকম ধাক্কা দিল বাম-কংগ্রেস জোট। যা দেখে আবার আশায় বুক বাঁধছে বিজেপি।
আসলে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই জেলাতে অভাবনীয় ফল করে শাসকদল। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ২২টি আসনের মধ্যে ২০টি আর মালদহের ১২টি আসনের মধ্যে ৮টি জেতে তৃণমূল। এই দুই জেলাতেই দু’নম্বরে ছিল বিজেপি। কিন্তু এবারের ফল দেখা যাচ্ছে, বিজেপিকে সরিয়ে বাম এবং কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, দুই জেলাতেই শাসকদলকে ভালরকম বেগ দিচ্ছে জোট। নিজেরা দ্বিতীয় স্থান থেকে ছিটকে গেলেও জোট যে তৃণমূলকে ধাক্কা দিতে পেরেছে, তাতেই আশা দেখছে গেরুয়া শিবির।
[আরও পড়ুন: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল কী? কী বলছে ব্যালট বাক্স?]
এই প্রতিবেদন লেখা হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দেওয়া তথ্য বলছে, উত্তর দিনাজপুরে সিপিএম কংগ্রেস মিলিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে দেড়শোটির মতো আসন দখল করেছে। মালদহে প্রায় ৬০০ গ্রাম পঞ্চায়েত আসন দখল করেছে বাম-কংগ্রেস। একা কংগ্রেসের দখলেই গিয়েছে ৪৭৫টির বেশি আসন। মুর্শিদাবাদে আবার ১৪০০-র বেশি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন পেয়ে গিয়েছে বাম-কংগ্রেস। এর মধ্যে প্রায় হাজার খানেক আসন গিয়েছে কংগ্রেসের দখলে। উত্তর-দিনাজপুর এবং নদিয়ার সংখ্যালঘু এলাকাতেও গ্রাম পঞ্চায়েতে বেশ কিছু আসন পেয়েছে বাম-কংগ্রেস জোট।
[আরও পড়ুন: ফোকাসে উত্তরবঙ্গ, রাজ্যসভায় বিজেপির বাজি অনন্ত মহারাজ! তুঙ্গে জল্পনা]
দু’বছর আগে বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট প্রায় নিরঙ্কুশভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের বাক্সে গিয়েছিল। তারপর সাগরদিঘির উপনির্বাচনে জয়ের উদাহরণ তুলে ধরে সংখ্যালঘু ভোট ফেরার অঙ্ক করেছিল বাম-কংগ্রেস। আর বিজেপি নেতারা দাবি করছে, সংখ্যালঘু ভোটে বাম-কংগ্রেস ভাঙন ধরিয়েছে। আর এর ফলে তৃণমূলের মোকাবিলায় লাভ হবে বিজেপিরই। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী সংখ্যালঘু ভোট ফেরা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘‘পরিস্থিতি বদল হতেই সংখ্যালঘুদের মনোভাবে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের আবার বক্তব্য, ‘‘সংখ্যালঘুরা মুখ ফেরাচ্ছে শাসকদলের দিক থেকে। আমাদেরও দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে দু’জন সংখ্যালঘু প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।’’ যদিও শাসকদল এই ধাক্কার তত্ত্ব মানতে নারাজ। শাসকদলের বক্তব্য, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে সংখ্যালঘুদের মধ্যে তৃণমূলই যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, সেটাই আবার প্রতিষ্ঠিত হল।