সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম। এই শব্দবন্ধনীকে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলাই যায়, বেন্ড ইট লাইক মেসি।
খেলার বয়স যেমনই হোক না কেন, পেনাল্টি বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেলে লিও মেসির (Lionel Messi) বাঁ পা কথা বলবেই বলবে। বাঁক খাওয়ানো ফ্রি কিক সবাইকে ফাঁকি দিয়ে বিপক্ষের জালে জড়াবে, এ যেন দস্তুর হয়ে গিয়েছে। ইন্টার মায়ামির হয়ে অভিষেক ম্যাচে সেই চেনা মেসিকে পাওয়া গেল। দেখা গেল সেই বুমেরাং ফ্রি কিক। যা ক্রুজ আজুলের মানবপ্রাচীরকে ধাঁধায় রেখে, তাদের গোলকিপারের মরিয়া প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে জালে জড়িয়ে যায়।
[আরও পড়ুন: গভীর রাতে শহরে পা রাখলেন মোহনবাগানের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা কামিন্স, এলেন পোগবাও]
ম্যাচের বয়স তখন কতই বা হবে। ৯৪ মিনিট। মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই। ইন্টার মায়ামিতে মেসির অভিষেক ম্যাচ দেখা হয়েছে, সেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে মাঠ ছাড়বেন দর্শকরা, এমনটাই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু তখনও যে লুকিয়ে রয়েছে আরও মশলা কে জানত! এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বহু পরিচিত সেই ফ্রি কিক জড়িয়ে গেল জালে। ডেভিড বেকহ্যামের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছেন ইন্টার মায়ামিতে। সেই বেকহ্যামও নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন বেকহ্যাম। অতীতেও তিনিও তো বাঁকানো ফ্রি কিক থেকে গোল করেছেন কতই। সামনে থেকে দেখলেন মহাতারকার গোল। ওই একটা ফ্রিকিক বুঝিয়ে দিল বাকিদের থেকে কেন সবঅর্থেই আলাদা মেসি। মেসির ওই শেষ মুহূর্তের ফ্রি কিক থেকে করা গোলে ম্যাচ জিতল ইন্টার মায়ামি।
Lionel Messi becomes the first player ever to score a free kick on a debut 😮💨🐐pic.twitter.com/7GN6guqbLd
— Guinness World Records (@_Wessinho) July 22, 2023
অভিষেক ম্যাচের আগে ইন্টার মায়ামির কোচ জেরার্ডো মার্টিনো বলেছিলেন, খেলার জন্য ফিট মেসি। কিন্তু শুরু থেকেই তাঁকে খেলানো হবে কিনা সেই ব্যাপারে কিন্তু এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রথমার্ধে মেসি বসে ছিলেন রিজার্ভ বেঞ্চে। ৪৪ মিনিটে রবার্ট টেলরের গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। দলের গোল উদযাপন রিজার্ভ বেঞ্চে বসেই করেন তিনি। ৫৪ মিনিটে মাঠে নামেন তিনি। ইন্টার মায়ামি গোল হজম করে মেসি নামার পরই। ৬৫ মিনিটে ক্রুজ আজুলের হয়ে সমতা ফেরান উরিয়েল আনতুনা।
মেসিকে দেখার জন্য চাঁদের হাট বসেছিল গ্যালারিতে। ডেভিড বেকহ্যাম তো ছিলেনই। এছাড়াও আগুয়েরো, বাস্কেটবল মহাতারকা লেব্রন জেমস, টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস এবং মডেল কিম কারদাশিয়ানও মাঠে ছিলেন মেসির অভিষেক ম্যাচে।
প্রথম ম্যাচ মেসির। সেভাবে দলের সঙ্গে মিশতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে সেটা খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু মেসি বল পায়ে নিজের ছাপ রেখে যান। বল নিয়ে দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎই গতিমুখ বদলে ফেলছিলেন। ঠিকানা লেখা পাস বাড়াচ্ছিলেন। বাঁ পায়ে বল নিয়ে দৌড়তে দৌড়তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরাচ্ছিলেন। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মেসির ফ্রিকিক, তার পরই গ্যালারি থেকে ভেসে এল গগনেভদী শব্দ–গো-ও-ও-ল। ওহ, আরও একটা কথা বল হল না। ইন্টার মায়ামির হয়ে অভিষেক ম্যাচে গোল করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায় নাম তুলে ফেললেন মেসি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক ম্যাচে ফ্রি কিক থেকে গোল করার নজির নেই কারওরই। মেসি নামের পিছনেই তো রেকর্ড ছোটে।