সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘খলিস্তান টাইগার ফোর্সে’র প্রধান হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যার ঘটনায় ভারত-কানাডা কূটনৈতিক যুদ্ধ চরমে উঠল। মঙ্গলবার রাতে কানাডার (Canada) নাগরিকদের উদ্দেশে জরুরি ভিত্তিতে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে জাস্টিন ট্রুডোর (Justin Trudeau) সরকার। সেখানে সরাসরি কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) নিয়ে ভারতকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে কানাডিয়ান নাগরিকদের জম্মু-কাশ্মীরে যেতে বারণ করা হয়েছে। যেহেতু ওই এলাকা ‘জঙ্গি উপদ্রুত’। যে কোনও মুহূর্তে খুন এবং অপহরণের আশঙ্কা রয়েছে। এমনকী এই মুহূর্তে ভারতে থাকা নাগরিকদের উদ্দেশে কানাডা সরকারের পরামর্শ, খুব প্রয়োজন না হলে ভারত ছাড়ুন।
কানাডা সরকারের ওয়েবসাইট প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে ভারতে বসবাস করা কানাডিয়ান নাগরিকদের চরম সতর্ক থাকতে হবে। “গোটা ভারতেই সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা রয়েছে, অতএব উচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করুন।” বলা হয়েছে, “পরিস্থিতির দ্রুত বদলাতে পারে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে নজরে রাখুন। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মানুন।”
[আরও পড়ুন: ছাত্রকে ওঠবস করিয়েছে কেন? ‘অপরাধে’ স্কুলে ঢুকে শিক্ষককে মার অভিভাবকদের]
কানাডিয়ান নাগরিকদের ভারত ভ্রমণ নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “ভারত ভ্রমণে আপনার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ওই দেশে যাওয়ার আগে দশবার ভাবুন।” পাশাপাশি যাঁরা এই মুহূর্তে ভারতে আছেন, খুব প্রয়োজন না হলে তাঁদের ভারত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে কানাডা সরকার। এইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সরাসরি ভারতকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়। বলা হয়েছে, সেখানে “নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত।” কাশ্মীরে ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখান “সন্ত্রাসবাদী হামলা আশঙ্কা রয়েছে । অস্থির নাগরিক অবস্থা। অপহরণেরও আশঙ্কা রয়েছে।” তবে লাদাখ ভ্রমণের বিষয়ে এমন সতর্কতা জারি করেনি কানাডা।
[আরও পড়ুন: ‘প্রভাব পড়বে না বাণিজ্য আলোচনায়’, কানাডাকে বার্তা দিয়ে ভারতের পাশেই ব্রিটেন]
প্রসঙ্গত, হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যা প্রসঙ্গে খলিস্তানিদের (Khalistan) দাবিতে সায় দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো (Justin Trudeau)। সেদেশের খলিস্তানিদের অভিযোগে কার্যত সিলমোহর দিয়ে কানাডায় (Canada) নিযুক্ত এক উচ্চপদস্থ ভারতীয় কূটনীতিককে নির্বাসিত করেছে ট্রুডোর মন্ত্রীসভা। সোমবারই ট্রুডো জানিয়েছিলেন, কানাডার নাগরিক খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনের নেপথ্যে ভারতীয়দের (India) হাত থাকতে পারে বলেই তদন্তকারীদের অনুমান। এর পরেই কানাডার সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সংঘাত চরমে উঠেছে।