সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভোর চারটে থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত পূজাপাঠ। বিকেলে তিন ঘণ্টা একই নিয়ম। যে কোনও পুজারীর কাছে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে এখানে পুরোহিতের ভূমিকায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। লখনউয়ের রাজ্যপাট ছেড়ে পাঁচ দিনের ছুটিতে যোগী আদিত্যনাথ। ফিরে এসেছেন গোরক্ষপুরে মঠে। সেখানেই চলছে পুজার্চনা। মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মকম্মে ব্যস্ত হলে রাজ্য কে সামলাবে এই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
[নেতাজির একদা শিষ্যা এখন দেশের শ্রেষ্ঠ ট্যুরিস্ট গাইড]
গোরক্ষপুর মঠের তিনিই শেষ কথা। প্রধান পুরোহিতও। প্রতি বছর দশেরা থেকে পাঁচ দিন মঠের বিশেষ পুজোয় প্রধান ভূমিকায় থাকেন যোগী আদিত্যনাথ। কয়েক মাস আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। প্রশাসনিক পিছুটানের মধ্যেও তিনি চলে এসেছেন গোরক্ষপুরে। এই এলাকা তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রও। পুজো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক আচারের কাজ করছেন যোগী। যার মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট কন্যাদের পা ধুইয়ে দেওয়া। গোশালায় গিয়ে গরুদের দেখভাল করা। নিজের হাতে করে খাওয়ানো। এসবের ফাঁকে তিনি প্রশাসনিক কাজ করছেন। আদিত্যনাথের অনুগামীরা বলেন, এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলেও আসলে তো যোগী। তাই তাঁর প্রথম কর্তব্য ধর্মচারণ। ক্ষমতা আসবে-যাবে, কিন্তু ধর্মের প্রতি দায়িত্ব অবহেলা করা যায় না। তবে যোগীর ধর্মচারণ এখনই থামছে না। দিওয়ালির সময় অযোধ্যায় বিশাল উৎসবের আয়োজন করেছে প্রশাসন। সেখানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও থাকবেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ লাগোয়া সরজূ নদীর তীরে আরতিও করবেন যোগী আদিত্যনাথ।
[এবার পেট্রপণ্যতেও ধার্য হবে GST! কী বলছে কেন্দ্র?]
পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে আদিত্যনাথের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টির প্রশ্ন রাজধর্ম থেকে সরে এসে শুধু মন্দির, দেবতা নিয়ে থাকলে কী করে চলবে। অখিলেশ যাদবের দলের বিদ্রুপ, এভাবেই সরকার চালাবে বিজেপি। এসবের অবশ্য জবাব না দিয়ে নিজের মেজাজেই আছেন যোগী। তবে মুখ্যমন্ত্রী ঘরে ফেরায় অবশ্য খুশি অনেকেই। অনেকেই পৌঁছে গিয়েছেন গোরক্ষপুর মঠে। আদিত্যনাথের কাছে তাদের অনেক কিছু চাওয়ার আছে যে।