সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের মাটি থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করতে বদ্ধপরিকর কেন্দ্রীয় সরকার। তবে মানবতা ও ঐতিহ্যর দোহাই দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে সওয়াল করছে বিরোধীরা। এমনই পরিস্থিতিতে গোয়েন্দাদের রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাল ছড়াচ্ছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। যেকোনও মুহূর্তে বড়সড় নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে।
[শ্রীনগর বিমানবন্দরের কাছে জঙ্গিহানায় শহিদ এক জওয়ান, নিকেশ তিন জঙ্গি]
পরিসংখ্যান মতে ভারতে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী রয়েছে। কাশ্মীর, লাদাখ ও রাজধানী দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে তারা। মায়ানমারে চলা সংঘর্ষ ও জেহাদিদের মগজধোলাইয়ের ফলে তাদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে লস্কর, জৈশ ও আল কায়দার মতো ইসলামিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি। ভারতের বিরুদ্ধে জেহাদে যোগ দেওয়ার জন্য শরণার্থীদের উসকানি দিচ্ছে তারা। এছাড়াও আন্তর্জাতিক জঙ্গিসংগঠন ইসলামিক স্টেট-এর সঙ্গেও যোগ রয়েছে রোহিঙ্গাদের একাংশের বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি রিপোর্ট মোতাবেক দেশের অন্য অংশের তুলনায় কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গারা। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলি কার্যত জেহাদিদের চারণভূমি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ওই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আর্থিক মদত দিচ্ছে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ইতিমধ্যে হুরিয়ত-সহ একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের জঙ্গিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা পরিস্থিতি আরও ঘোরালো করে তুলছে, বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
[লঙ্কেশ খুনের প্রতিবাদে জাতীয় পুরস্কার ফেরানোর কথা অস্বীকার প্রকাশ রাজের]
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষজ্ঞ ও বিখ্যাত গবেষক কিশলয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে এবার রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়ে ফের সেই ভুল করতে চায় না কেন্দ্র। তিনি আরও জানান, একবার ভারতে প্রবেশ করলে বাংলাদেশিই হোক বা রোহিঙ্গা তারা দেশে ফিরে যেতে চায় না। এমনকি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারও তাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না। যাই হোক না কেন, রোহিঙ্গাদের একাংশের জঙ্গিযোগ নিয়ে বিশেষ উদ্বিগ্ন প্রতিরক্ষামহল।