সুকুমার সরকার, ঢাকা: মায়ানমারে মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অন্তত ৩৩ রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুলিশ সূত্রে খবর, বাংলাদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে নাফ নদীতে ডুবে যায় শরণার্থী বোঝাই নৌকো। এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী দল। তবে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
[কাশ্মীর আলাদা দেশ, আজব প্রশ্নে তোলপাড় পড়শি রাজ্য]
টেকনাফ থানার ওসি মহম্মদ মইনউদ্দিন খান জানান, মঙ্গলবার সকালে বঙ্গোপসাগরের মিঠাজলের ছড়া এলাকা থেকে এক শিশু ও চার রোহিঙ্গা নারীর দেহ উদ্ধার করা হয়। রবিবার রাত ১০টার দিকে নাফ নদীর গোলারচর পয়েন্টে নৌকা ডুবির পর এই পাঁচজন-সহ মোট ৩৩ রোহিঙ্গার দেহ উদ্ধার করা হল। উল্লেখ্য, নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। এর আগেও শরণার্থীদের একাধিক নৌকো ডুবেছে ওই নদীতে। প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের লড়াইয়ের মাশুল গুনতে হচ্ছে নিরীহ বাসিন্দাদের। অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের গণহত্যা করছে মায়ানমার সেনা। ওই নিধনযজ্ঞ থেকে প্রাণ বাঁচাতে ইতিমধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবিরে রয়েছেন তাঁরা। অন্য একটি ঘটনায়, বুধবার বিএসএফের সহায়তায় সাতক্ষীরা সীমান্তে ১৯ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
[‘কোনদিন শুনব দূষণের কারণে হিন্দুদের দাহ করাও নিষিদ্ধ হয়েছে’]
প্রসঙ্গত, অর্থনীতি-সহ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষেত্রেও বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। উদ্বাস্তুদের জন্য ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে বলে আশঙ্কা করছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য এ পর্যন্ত ১৫০ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড়, জলাশয়, সমুদ্র সৈকত-সহ প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করেছে কমিটি।