কল্যাণ চন্দ, বহরমপুর: ১০ লক্ষ টাকা দিলেই রাজ্যের মন্ত্রী হওয়া যাবে! ‘সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না, দেড় লক্ষ টাকা অগ্রিম দিলেই হবে’। মন্ত্রিত্ব পাইয়ে দেওয়ার নামে তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়কের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতানোর ছক! আইপ্যাকের নাম করেও বিধায়কের বিশ্বাস অর্জন করতে চেয়েছিলেন সমাজ মাধ্যমের এক রিপোর্টার। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। এই ঘটনায় তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মধ্যমগ্রাম থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ধৃত যুবক পেশায় সাংবাদিক।
পুলিশ সূত্রে খবর, তৃণমুল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মন্ত্রিত্ব পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টোপ দেওয়া হয়। অভিযোগ, আইপ্যাকের নাম করে কয়েক লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছিল বার বার। হুমায়ুনের ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বারাসতের মধ্যমগ্রাম থেকে একজনকে গ্ৰেপ্তার করে বহরমপুর থানার পুলিশ।
[আরও পড়ুন: কবে কার্যকর হবে নয়া দণ্ডসংহিতা আইন? লোকসভার আগে বড়সড় ঘোষণা কেন্দ্রের]
মুর্শিদাবাদ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মজিদ খান জানান, বিধায়ক হুমায়ুন কবীর শক্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই তদন্তে নেমে মধ্যমগ্রাম থেকে অঞ্জন সরকার নামে একজনকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি একটি নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক। অভিযুক্ত ওই যুবককে বহরমপুর আদালতে তোলা হলে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
ওই সাংবাদিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, একবছর আগে তাঁকে মন্ত্রিত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন ওই যুবক। বারবার ফোন করে কোন কাজ না হওয়ায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ওই যুবক। চলতি মাসে ফের ওই যুবক ফোন করে মন্ত্রিত্ব পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ টাকার দাবি করেন। দেড় লক্ষ টাকা অগ্রিম চাওয়া হয়েছিল তাঁকে। এমনকি আইপ্যাকের বিভিন্ন জনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই যুবক। সন্দেহ হওয়ায় ওই যুবকের ‘ফোন পে’তে পঁচিশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর, যাতে ওই যুবককে প্রমাণ-সহ ধরা যায়। আর হুমায়ুনেই ওই বুদ্ধিতেই পুলিশের জালে জড়িয়ে পড়লেন অঞ্জন।