সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কালো টাকা দেশে ফেরানো হবে। প্রত্যেক ভারতবাসীর অ্যাকাউন্টে যাবে ১৫ লক্ষ টাকা। গত লোকসভা নির্বাচনে এটিই ছিল নরেন্দ্র মোদির অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। তবে গত ৩ বছরে প্রধানমন্ত্রীর হাবভাবে টাকা ফেরার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছেন দেশের অনেকেই। কেরলের কৃষক কে ছাটু এমন দলে পড়েন না। তিনি এখনও ১৫ লক্ষ টাকা ফেরতের স্বপ্নে মশগুল। এই আশায় প্রধানমন্ত্রীকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সহ চিঠি লিখেছেন ছাটু।
[কংগ্রেস ঠিক ফিরে আসবে, প্রত্যয় প্রণব মুখোপাধ্যায়ের]
কেরলের ওয়ানাড জেলার বাসিন্দা ছাটু এবছর চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। বিপুল টাকা তাঁর ক্ষতি হয়েছে। এই লোকসান কীভাবে মিটবে তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ওই চাষি। তখনই তাঁর মাথায় আসে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা। ছাটু সময় নষ্ট না করে চিঠি লিখে ফেলেন। ৬৮ বছরের কৃষক লেখেন,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
ক্ষমতায় আসার তিন বছর পরও আপনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি। উলটে কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম হু হু করে বাড়ছে। সাধারণ মানুষ হিসাবে মনে করি আমাদের জীবন দুর্বিষহ হচ্ছে।
এবছর চাষে আমার বিপুল ক্ষতি হয়েছে। বিনীত নিবেদন অন্তত ৫ লক্ষ টাকা আমাকে দেওয়ার ব্যাপারে আপনি কিছু ব্যবস্থা করুন।
বিনীত
কে ছাটু
ওয়ানাড, কেরল
[কেজরির চুরি যাওয়া গাড়ি খুঁজতে পুরস্কার ঘোষণা দলের]
চিঠি লিখেই শুধু থামেননি কেরলের এই কৃষক। নিজের সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্যও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কেন তিনি এমন চিঠি লিখলেন? ছাটুর জবাব প্রধানমন্ত্রী উপলক্ষমাত্র। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন প্রতিটি রাজনৈতিক দল ভোটের আগে অনেক কিছু বলে। তাদের ঘুম ভাঙাতেই এমন উদ্যোগ। প্রান্তিক এলাকার এই প্রতিনিধির মতে নোট বাতিল এবং জিএসটির জন্য গোটা দেশ ভুগছে। কিন্তু এব্যাপারে তেমন কোনও প্রতিবাদ হচ্ছে না। কেরলের এই কৃষক কয়েক দিন আগে শিরোনামে এসেছিলেন। এক অভিনেতা বিজ্ঞাপনে বলেছিলেন বিশেষ সাবান ব্যবহার করলে ফর্সা হওয়া যাবে। এর ব্যাখ্যা চেয়ে মামলা করেছিলেন ছাটু। পিছু হটতে হয়েছিল কেরলের ওই জনপ্রিয় অভিনেতাকে। ছাটু যে বিষয় নিয়ে চিঠি লিখেছেন তা দেশের অনেকের মনের কথা। কেরলের এই কৃষকের চিঠির ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রী কীভাবে দেন তা নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল।