Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
2024 Lok Sabha Election

ভোটপ্রচারের হাতিয়ার প্রযুক্তি, জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলবে?

সোশাল মিডিয়ার সঙ্গে ভোটপ্রচারে এআইও!

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২৪, ২০:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২৪, ২০:৪৫

options
link
ভোটপ্রচারের হাতিয়ার প্রযুক্তি, জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলবে? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এটা প্রযুক্তির যুগ। সোশাল মিডিয়ার দাপাদাপি সর্বত্র। আর এই পরিবর্তনের হাওয়া রাজনীতিতে এসে পড়বে না, তা কি হয়? ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে বলা হয়েছিল ‘দ্য হোয়াটসঅ্যাপ ইলেকশন’। পাঁচ বছর পর ফের লোকসভা ভোট (2024 Lok Sabha Election)। প্রশ্ন উঠছে, আজকের দুনিয়ায় সোশাল মিডিয়ায় ভোটপ্রচার জনমানসকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে?

গত তিন দশকে আমূল বদলেছে দেশের প্রযুক্তি-নির্ভরতা। একটা পরিসংখ্যান বলছে ১৯৯০ সালে ভারতে প্রতি ১ হাজার জনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬টি ল্যান্ডলাইন ফোন! তাও নতুন সংযোগের আবেদন করলে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হত। আর মোবাইল তো তখন কল্পবিজ্ঞান! দেওয়াল লিখন থেকে সভাসমিতিই প্রধান ভরসা। কিন্তু কয়েক দশক পেরিয়ে এসে আস ছবিটা একেবারেই আলাদা। ২০২২ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভারতীয়র হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে। ২০২৬ সালে ভারতে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটিতে পৌঁছনোর কথা! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে, তাহলে এখনও কেন সেই পুরনো কায়দায় ভোটপ্রচার করছে দলগুলি? কেন আরও বেশি করে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে না তারা? তাহলে তো অর্থ থেকে সময়, সবই বাঁচিয়ে ফেলা সম্ভব!

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: মানুষের জীবন আগে, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা আটকাব না! সাফ জানালেন বিচারপতি সিনহা]

মনে রাখতে হবে, এখন প্রতিটি দলই বছরভর সোশাল মিডিয়াকে (Social Media) অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। প্রত্যেকেরই রয়েছে আইটি সেল। কিন্তু তবুও তা গুরুত্বে বোধহয় এখনও শীর্ষে পৌঁছতে পারেনি। এপ্রসঙ্গে আরও একটা পরিসংখ্যানের কথা বলা যেতে পারে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কিন্তু সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী মোদি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দেশের দুই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাই নির্বাচনের আগে ১৪০টির মতো জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন! অন্য তারকা প্রচারকরাও খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। এই পরিসংখ্যান বলে দেয়, যতই ২০১৯ সালের নির্বাচনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন’ তকমা দেওয়া হোক, শেষপর্যন্ত পুরনো কায়দাকে এতটুকু অবহেলা করেনি হাত থেকে পদ্ম শিবির।

আসলে আধুনিক ভারতবর্ষেও ভোটপ্রচারে মূলত দুটি দিক রয়েছে। একটি অনলাইন, অন্যটি জনসভাভিত্তিক প্রচার। সম্প্রতি ব্রিগেডে তৃণমূলের জনগর্জনসভায় মঞ্চে ভাষণের পাশাপাশি একটি মিনিট দশেকের ভিডিও-ও দেখানো হয়। যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার করা হয়েছে। এভাবেই জনসভাতেও প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন যুগের ধারাটিকেই প্রতিফলিত করে। এর আগে ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়ার অভিযোগ উঠেছিল। মস্কো নাকি ভুয়ো খবর ছড়িয়ে জনমানসকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। বাইডেন সম্পর্কে অপপ্রচারে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সামগ্রিক ভাবে আমজনতা তথা ভোটারদের হৃদয়কে প্রভাবিত করতে পারে, এমন ক্ষমতা যে প্রযুক্তির রয়েছে, সেই বিশ্বাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে গত কয়েক বছর ধরে।

সুতরাং সব মিলিয়ে একথা বলাই যায়, ভোটপ্রচারে সোশাল মিডিয়া তথা প্রযুক্তির ব্যবহার বহুদিন ধরেই আর পরীক্ষামূলক নয়। বরং এখন তা মূল ধারারই অংশ। কিন্তু সেটা এতদিনের প্রচারকৌশলকে অপসারিত করে তার বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি এখনও। বরং এই ধরনের প্রচার জনসভা, মিছিল, দেওয়াল লিখনের সম্মিলিত প্রচারকৌশলকেই আরও শক্তিশালী করেছে। কেবল সোশাল মিডিয়াই বা কেন। যুক্ত হয়েছে এআই তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

[আরও পড়ুন: ৪ মাসের নাতিকে ২৪০ কোটি দিলেন নারায়ণমূর্তি, ‘এজন্যই কি ৭০ ঘণ্টা খাটব?’ তোপ নেটদুনিয়ার]

গত ২৩ জানুয়ারি আচমকাই এক জনসভায় বিপুলসংখ্যক জনতার সামনে অতিকায় পর্দায় ভেসে ওঠে এম করুণানিধির মুখ! নিজের একদা সতীর্থ রাজনীতিবিদ টি আর বালুর হয়ে প্রচার করতে দেখা যায় তাঁকে। ২০১৮ সালে প্রয়াত করুণানিধিকে এভাবে প্রচার করতে দেখে অনেকেই চমকে যান। বলাই বাহুল্য, এসবই এআইয়ের কারসাজি। অথচ দেখে বোঝা প্রায় অসম্ভব ‘ট্রেডমার্ক’ কালো চশমা, সাদা শার্ট ও হলুদ শাল পরিহিত নেতার এই ‘জীবন্ত’ অবয়ব আসলে সম্পূর্ণ কৃত্রিম। এই প্রথম নয়। এর আগেও ডিএমকে প্রয়াত নেতাদের ভোটপ্রচারে উপস্থিত করেছে! এভাবেই সাম্প্রতিক ভারতে এআইও তার ডালপালা বিস্তার করতে শুরু করেছে ভোটপ্রচারেও। ফলে এই মুহূর্তে প্রযুক্তির দিকটি ভোটের প্রচারকৌশলে যতটা অংশ নিচ্ছে, আগামিদিনে ছবিটা আরও বদলে যেতেই পারে। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে শেষপর্যন্ত তা মূল প্রচারের সহযোগী হয়েই থাকছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.