টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: দেশ জুড়ে বইছে লোকসভা ভোটের (Lok Sabha Election 2024) হাওয়া। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যস্ত ভোট প্রচারে। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে (Bankura Lok Sabha constituency) কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকারকে ফের প্রার্থী করেছে বিজেপি (BJP)। জোরকদমে প্রচার সারছেন তিনি। প্রার্থী নিয়ে বাঁকুড়া বিজেপির অন্দরে শুরু থেকেই বিদ্রোহের সুর শোনা গিয়েছিল। সুভাষের পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিল জেলা নেতৃত্ব। সেই দাবি কার্যত উড়িয়ে সুভাষের উপরই ভরসা রেখেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু এবার তাঁর বিরুদ্ধেই এবার সরাসরি বিক্ষোভ করে বসল বাঁকুড়ার বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। বিজেপির আদি নেতা বলে পরিচিত জীবন চক্রবর্তী নির্দল প্রার্থী হিসাবে নিজেকে ঘোষণা করেছেন। সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখা হয়েছে, “বাঁকুড়ার দানবকে হারাতে সবাই সহযোগিতা করুন।” আর এই পোস্ট ঘিরে ফের প্রকাশ্যে বাঁকুড়ার বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল।
লোকসভা ভোটের প্রার্থী ঘোষণার আগে থেকেই একটা চোরা স্রোত বইছিল বিজেপির অন্দরে। প্রার্থী হিসাবে সুভাষ সরকারের নাম সামনে আসার পরে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন দলের একাংশ। প্রার্থী বদলকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠিও দেন বিক্ষুব্ধরা। তাতে অবশ্য আমলই দেননি শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার আরও একধাপ এগিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সুভাষের বিপক্ষে ‘নো ভোট’ প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে সুভাষের বিপক্ষ শিবিরের নেতা বলে পরিচিত জীবন চক্রবর্তী নিজেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ঘোষণাও করেছেন।
[আরও পড়ুন : একবারও ভোটে হারেননি, ঝাড়গ্রামে লালদুর্গ পুনরুদ্ধারে অপ্রতিরোধ্য সোনামণিই বাজি বামেদের]
সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। সেখানে লেখা, “বাঁকুড়ার অসুরকে বধ করার জন্য এক টাকা থেকে সাধ্যমত সহযোগিতা করুন। আমার বিশ্বাস, আপনার দান অসুর বধে সহযোগিতা করবে।” এই লেখার পর নিচে দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য। অবশ্য সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। অন্যদিকে দলের যুব মোর্চার একটি অংশকে সুভাষের প্রচারে দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছেন বাঁকুড়ার বেজেপি নেতৃত্ব।
[আরও পড়ুন: নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিপদে ভরসা আরটিসেট, পুরুলিয়ার ৮৭ বুথে চ্যালেঞ্জে ভোটকর্মীরা]
সুভাষের বিরুদ্ধে দলের ভিতরে বিক্ষোভ বা দলের নেতার তাঁর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করলেও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। কয়েকদিন আগে এই বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, “ভোটের সময় প্রার্থী হওয়ার লোভে অনেকে এই সব করে। এখানে উন্নয়নের ভোট হবে।”