নন্দন দত্ত, বীরভূম: শীতলকুচি গণহত্যার নায়ক দেবাশিস ধর, বুধবার বীরভূমের তারাপীঠে কর্মিসভায় এই ভাবেই বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে মুখ খুললেন দেবাশিস ধর। কটাক্ষের জবাবে এদিন তিনি জানান শীতলকুচির ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন রাজ্যের সর্বোচ্চ মাথা। তদন্তে সত্য উঠে আসবে।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় কোচবিহারের (Cooch Behar) শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ভোটের লাইনে প্রাণ হারান ৪ ভোটার। সেই ঘটনার সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এলাকার দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা ও বর্তমান বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস।
[আরও পড়ুন: দেশে একদলীয় গণতন্ত্র চাইছে বিজেপি! মাথাভাঙায় বিস্ফোরক মমতা]
রাজ্যে তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর ঘটনার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয় তৎকালীন পুলিশকর্তা দেবাশিস ধরকে। তদন্তের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। দেবাশিসের সম্পত্তি আতস কাচের তলায় ফেলা হয়।
কিছুদিন আগে আইপিএসের পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন দেবাশিস। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুবরাজপুর পাহাড়েশ্বরে পুজো দিয়ে দেবাশিসবাবু পালটা বলেন, “শীতলকুচির ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। আমি গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি। ঘটনার তদন্ত করেছে সিআইডি।আমার কোনও দোষ থাকলে এখানে বসে থাকতাম না। এফআইআরে নির্দিষ্ট নাম আছে। এর সঙ্গে রাজ্যের সর্বোচ্চ মাথা জড়িত। সত্য উঠে আসবে।”
[আরও পড়ুন: ছেলের সামনেই এলোপাথাড়ি কোপ! নাকাশিপাড়ায় খুন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী, কাঠগড়ায় কং-সিপিএম]
বুধবার অভিষেক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “শীতলকুচি কাণ্ডের পর তৎকালীন রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেছিলেন জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে। এই তথ্য যদি ভুল হয় তাহলে দেবাশিসবাবুর উচিত তাঁর দলের সেই নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা।”
অভিষেকের পর বৃহস্পতিবার কোচবিহারের সভা থেকে দেবাশিসকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “শীতলকুচিতে এত মানুষ মেরে হাতের রক্ত এখনও মোছেনি। এখন আবার বীরভূমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।”