দীপঙ্কর মণ্ডল: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন মুকুল রায়, অন্তত এমনটাই দাবি তাঁর ঘনিষ্ঠদের। আজ বিকেল চারটেয় বিজেপি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বাড়িতে যেতে পারেন একদা তৃণমূলের ‘নম্বর টু’ মুকুল। এরপর সম্ভবত দু’জনেই দিল্লির অশোক রোডে যাবেন। সেখানে বিজেপির সদর দপ্তরে দীপাবলির মিলন অনুষ্ঠান রয়েছে। সেখানেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন মুকুল রায়, এমন জল্পনা উস্কে দিয়েছেন বিজয়বর্গীয়।
Watch LIVE coverage of deepawali mangal milan samaroh. https://t.co/OmYxSsuKYP pic.twitter.com/JB3oVL91bx
Advertisement— BJP LIVE (@BJPLive) October 28, 2017
[ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধৃত জগদ্দল থানার এএসআই]
অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ। আজ রাতেই তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা। রবিবার রাজ্য বিজেপি দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক বিজেপিতে যোগদানের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন মুকুল, জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। আজ দিল্লিতে বিজেপির সর্বস্তরের নেতারা দিওয়ালি উপলক্ষে একত্রিত হতে চলেছেন। সকালে ওই অনুষ্ঠানে একপ্রস্থ ভাষণ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ওই অনুষ্ঠানে মুকুল রায়কে নিমন্ত্রণ জানিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সেখানেই মুকুলকে দলে টেনে আনার কথা ঘোষণা করতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। জানা গিয়েছে, দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন খোদ শাহ। সূত্রের খবর, মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় কোনও পদ দিতে চলেছে বিজেপি। তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকও করা হতে পারে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে এ রাজ্যের সঙ্গে ওড়িশা, সিকিম ও ত্রিপুরার দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদকে। শুক্রবার শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের রাজ্যস্তরের এক বৈঠকে যোগ দিতে এসে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, ‘মুকুল রায় আমাদের দলে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁকে নেওয়া হবে কি না তা রাজ্য কমিটি ঠিক করবে।’ তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মুকুল রায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি। জানালে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই।
[প্রাথমিকের টেট-এ বসতে পারবেন প্রশিক্ষণরতরাও, নির্দেশ হাই কোর্টের]
বিজেপি শিবিরের কাছাকাছি আসার জন্য একাধিক পুরস্কার জুটেছে মুকুলের কপালে। সাংসদ পদ ছাড়লেও তাঁর জন্য বরাদ্দ দিল্লির বাসভবনটি সযত্নে রাখা রয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মুকুল রায়কে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সম্প্রতি। দিল্লি বা কলকাতা, মুকুল রায় যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর জন্য মোতায়েন থাকবে বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী। সূত্রের খবর, দিল্লিতে থাকলে মুকুল রায় সর্বক্ষণের জন্য একজন স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রধারী ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী পাবেন। কলকাতায় এলে তাঁকে চার জন নিরাপত্তারক্ষী-সহ ‘এসকর্ট কার’ দেওয়া হবে। গেরুয়া শিবিরের কাছাকাছি আসার জন্যই কি মুকুলকে এই ‘ভেট’, উঠছে প্রশ্ন। তবে একথা ঠিক, যে এ রাজ্যে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে মুকুল রায়ের যোগদানকে ঘিরে উৎসাহ তুঙ্গে। তাঁরা চাইছেন, রাজ্য বিজেপিকে অক্সিজেন জোগাতে মুকুলের মতো একজন সাংগঠনিক নেতা এ রাজ্যের নেতৃত্ব দিক। তৃণমূল ত্যাগ করে আসা একদা মমতা-ঘনিষ্ঠ মুকুলকে এ রাজ্যের মাথা করে সারদা-নারদার মতো ইস্যুতে ঘাসফুলের বিরুদ্ধে ‘অল-আউট’ ঝাঁপাতে চায় পদ্ম শিবির। মুকুল বিজেপি চলে এলে তাঁর অনুগামীরাও ধীরে ধীরে গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।