ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় তরুণী চিকিৎসককে যৌন হেনস্তার পর খুনের জের। আর জি কর হাসপাতালের সুপারকে (MSVP) সরিয়ে দেওয়া হল। সূত্রের খবর সুপার সঞ্জয় বশিষ্ঠের বদলে আপাতত দায়িত্ব সামলাবেন ডাঃ বুলবুল মুখোপাধ্যায়, যিনি হাসপাতালের ডিন এবং এই ঘটনায় গঠিত ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্যতম। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, সরাতে হবে প্রিন্সিপালকে। তার বদলে সুপারকে সরিয়ে আন্দোলনের ঝাঁজ কমাতে উদ্যোগী হল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, আর জি কর (RG Kar Hospital) কাণ্ডে রাজ্যের অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে বিপাকে রোগীরা। অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে ফিরছেন। তা রুখতে রবিবার স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা নির্দেশ জারি করেছেন, অবিলম্বে সমস্ত চিকিৎসককে কাজে যোগ দিতে হবে। ব্লক, জেলা, সদর সমস্ত স্তরের হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য এই নির্দেশ জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার আদেশনামায় উল্লেখ, সোমবার থেকে সব হাসপাতালের আউটডোর (OPD) চালু করতে হবে। সকলকে কাজে যোগ দেওয়ানোর দায়িত্ব এমএসভিপি অর্থাৎ মেডিক্যাল সুপারের। যদিও রেসিডেন্স ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, এই নির্দেশ তাঁরা মানবেন না। পে রোলে থাকা সব চিকিৎসক কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন।
[আরও পড়ুন: তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু থেকে শিক্ষা, বাড়ল আর জি কর হাসপাতালের নিরাপত্তা]
আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার রেশ এবার আছড়ে পড়ল দেশজুড়ে। সর্বভারতীয় ফেডারেশন অফ ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সোমবার থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করছে। রেসিডেন্স ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের তরফে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হবে বলে খবর। তাদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য-শিক্ষা যৌথ দায়িত্বের বিষয়। তাই আর জি করের মতো ঘটনার দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্রও। দেশের প্রতিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সদের যথাযথ নিরাপত্তা (Security)দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হতে চলেছে চিকিৎসক সংগঠনগুলি। এনিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে চিঠি পাঠিয়ে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলি পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।