Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Abir Chatterjee

‘ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়ার পলিটিক্স চলে…’, একান্ত সাক্ষাৎকারে কেন এমন কথা আবিরের?

নিজের ব‌্যক্তিগত মতামত স্পষ্টভাবেই জানালেন অভিনেতা। নতুন সিনেমা 'বহুরূপী' নিয়েও বললেন কথা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৪, ১৪:২৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৪, ১৪:২৪

options
link
‘ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়ার পলিটিক্স চলে…’, একান্ত সাক্ষাৎকারে কেন এমন কথা আবিরের? zoom

ইন্ডাস্ট্রিতে পাওয়ার পলিটিক্স চলে বললেন আবির চট্টোপাধ‌্যায় (Abir Chatterjee)। আসন্ন ছবি ‘বহুরূপী’, আর জি কর কাণ্ড এবং টলিউডের অন্দরের হেনস্তা নিয়ে কথা বললেন অভিনেতা। একান্ত সাক্ষাৎকারে বিদিশা চট্টোপাধ‌্যায়

কেমন আছেন?
এইটা সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। নিজেও ঠিক বুঝতে পারছি না, কী বলা উচিত, কারণ অনুভূতিগুলো এত ওঠানামা করছে। সবচেয়ে সহজ, স্বাভাবিক প্রশ্নের উত্তরটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই বছরে আপনার তিনটে ছবি রিলিজ করেছে। প্রশংসিত হয়েছে। বক্স অফিসে খানিক সাফল‌্য, হতাশাও এসেছে। এর মধ্যে দাঁড়িয়ে আসন্ন ছবি ‘বহুরূপী’-র প্রচার। অনুভূতিটা ঠিক কেমন?
সবার আগে আমি নিজেকে প্রশ্ন করতে চাই, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এটা কি আদৌ সঠিক সময় ছবির প্রচার করার? এটুকু বলতে পারি– আমি কাজ বন্ধ রাখিনি। আমি এটা মনে করি, মানুষ যদি সৎভাবে কাজের মধ্যে নিজেকে ব‌্যস্ত রাখতে পারে, তাহলে তাদের মাথায় ‘অকাজ’-এর ভাবনা ঢুকবে কম। আমার পেশায়, যেটা আমার কাছে কাজ, সেটা অন‌্যদের কাছে বিনোদন। এই সূক্ষ্ম তফাতটা বোঝার মতো মানসিক পরিস্থিতি বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই নেই। তাই নানাভাবে ট্রোলিংও হচ্ছে।

abir-2

 

আর জি কর-এর ঘটনা ফলো করছেন? এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হিয়ারিং হল, বাড়িতে দেখছেন?
এই মুহূর্তে আমি সোশ‌্যাল মিডিয়াতে অ‌্যাক্টিভ নই, সেটা নতুন ফোনের টেকনিক্যাল কারণে। কিন্তু সব খবর, যা কিছু ঘটছে সবই ফলো করছি। বাড়িতেও সবাই দেখছে। আর সোশ‌্যাল মিডিয়াতে নেই বলে আসল খবর আরও ভালোভাবে জানতে পারছি। ওই যে বললাম না একটু আগে ‘অকাজ’-এর কথা। সোশ‌্যাল মিডিয়ার সেই সব অকাজের খবর থেকে দূরে আছি। মত প্রকাশ করছি না, এটা আমার ব‌্যক্তিগত স্ট‌্যান্ড। খুব কিছু পরিবর্তন না হলে আমি এই সিদ্ধান্তেই অনড় থাকব।

আর জি কর-এর ঘটনাকে ঘিরে, ডাক্তারদের পাশে যেভাবে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়েছেন– এই জনজাগরণ আমরা বোধহয় দেখিনি।
না, আমার জীবদ্দশায় আমি দেখিনি। একটা ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। আমিও এর মধ্যে রাস্তায় ছিলাম। কোন পথে এগোলে ঠিক পথটা পাওয়া যাবে, সেটা সময় বলে দেবে। ভালো কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। তবে এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ– এটা দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের বিশ্বাসটা আবার ফেরত আসছে। কারণ সকলেই বোধহয় ভিতরে ভিতরে ভেবে নিয়েছিলাম যে আমাদের দ্বারা আর কিছুই হবে না, কিছুই করতে পারব না। আমি ধন‌্যবাদ দেব আমার থেকে কম বয়সি বা আমার অনুজদের যারা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে এখনও আশা আছে। নতুন প্রজন্মকে বুঝতে ভুল করেছিলাম। আজকে বলতে দ্বিধা নেই, একটা প্রচ্ছন্ন গর্ব হচ্ছে যে আমার শহর এটা করে দেখাল। অন্ধকারে সেটাই একমাত্র আলো।

Abir 2

‘রক্তবীজ’-এর পর এবার পুজোতেও আপনি প্রশাসনের তরফে, পুলিশের ভূমিকায়। অর্থাৎ রক্ষকের চরিত্রে। এখন গোটা বাংলায় পুলিশের ইমেজ ভালো নয় মোটেই। কী বুঝছেন?
অনেস্টলি বলছি, এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ে দাঁড়িয়ে বিচার করলে ভুল হবে। সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে। ‘বহুরূপী’ বাস্তব থেকেই নেওয়া। নয়ের দশকে শহরতলিতে একটা সময়ে একের পর এক ব‌্যাঙ্ক ডাকাতি হচ্ছিল। ডাকাতদের সঙ্গে পুলিশের একটা ক‌্যাট অ‌্যান্ড মাউস গেম চলতে থাকে। এই ঘটনাকে মাথায় রেখেই শিবপ্রসাদ-নন্দিতা, সিনেমার খাতিরে ফ‌্যাক্ট এবং ফিকশন মিশিয়ে গল্পটা তৈরি করেছেন। তো এই ছবিকে সেই জায়গা থেকে দেখাই ভালো। আর একটা ব‌্যাপার, এই ছবিতে যে অসৎ কাজ করছে, সে কেন করছে, তার উদ্দেশ‌্য কী, এই বিষয়টাও উঠে এসেছে। এবং আইনের দিকে যে আছে তার জীবনটাও সহজ নয়। টিজারে আছে, পুলিশ অফিসারটি বলছেন, ‘এটা আমার ব‌্যর্থতার গল্প’।

কে বলতে পারে, কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে অনেক পুলিশকর্মী হয়তো মনে মনে বলছেন, ‘এটা আমাদের ব‌্যর্থতার গল্প’!
হ্যাঁ, কারেক্ট। কেবল পুলিশ নয়, আমরা যদি ব‌্যর্থতা মেনে নিয়ে সেখান থেকে শিখতে পারি, তাহলেই উন্নততর মানুষ হতে পারি।

ছবিতে অ‌্যান্টাগনিস্টের চরিত্রটা বেশ কালারফুল। অনেক কিছু করার আছে, যেটাতে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ‌্যায় অভিনয় করছেন। তারই পরিচালনায় পরপর দুবার পুলিশের ভূমিকায় অভিনয় করতে রাজি হলেন কেন?
‘পঙ্কজ সিংহ’-র থেকে ‘সুমন্ত ঘোষাল’-এর চরিত্রটা অনেকটাই আলাদা। এই ছবিতে ‘সুমন্ত ঘোষাল’-এর ব‌্যক্তিগত জীবনটা বেশি এক্সপ্লোর হয়েছে। একজন পুলিশ অফিসারের জীবনের যে চ‌্যালেঞ্জগুলো – সেটা যত্ন করে সামনে আনা হয়েছে। ‘পঙ্কজ সিংহ’ অনেক ঠান্ডা মাথার। অন‌্যদিকে ‘সুমন্ত’ অনেক বেশি অ‌্যাগ্রেসিভ, যে কারণে সে অনেক ভুলও করে। নিজে স্বীকারও করে। ‘সুমন্ত’ অনেক বেশি রক্তমাংসের মানুষ। আর আমার এই ধরনের ‘চরিত্র’ করতে খুব ভালো লাগে, যে চরিত্রে অনেক কিছু না করেও বা না বলেও সবটা সূক্ষ্ম অভিনয় দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া যায়। বাকিটা বলছি না। ছবিটা দেখলে বুঝবেন।

bohurupi-cover

আর জি কর-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউডও সোচ্চার। হ‌্যারাসমেন্ট-এর ক্ষেত্রে পরিচালক অরিন্দম শীলের নাম উঠে এসেছে। তাঁর ডেবিউ ছবিতে আপনি ছিলেন এবং ‘ব্যোমকেশ’ সহ অনেক ছবিই করেছেন। আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে। আপনি ওঁর ব‌্যবহারে কখনও কিছু লক্ষ‌ করেননি? এরপর সুযোগ এলে ওঁর পরিচালনায় কাজ করবেন?
কাজ করার সময় কোনও সহ-অভিনেত্রী আমাকে ওঁর ব‌্যাপারে কখনও কিছু বলেনি। এই ধরনের বিষয় খুব সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখতে হবে। অনেক সময়ে যে মানুষটির সঙ্গে হ‌্যারাসমেন্ট ঘটছে, সে ছাড়া অন‌্যদের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। তাই অনেক বেশি অ‌্যাটেনটিভ হতে হবে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে তো সকাল ৯টা-৫টা হিসাবে কাজ হয় না। সেটা কাজের টাইমিং বলো বা কাজের ধরন। একটা ‘চরিত্র’ হয়ে কাজ করছি। সেই চরিত্রের প্রয়োজনে এমন কিছু করতে হতে পারে যেখানে কিছু অভিনেতার আনকমফর্টেবল লাগতে পারে, বা চরিত্রের প্রয়োজনে এমন দৃশ‌্য থাকতে পারে যার আড়ালে হ‌্যারাসমেন্ট-এর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই ওয়ার্কপ্লেসে ব‌্যালান্স দরকার।

কীরকম ব‌্যালান্স?
ব‌্যালান্স তখনই সম্ভব যখন আমরা সহকর্মীদের প্রতি সম্মান করতে পারব। এবং নিজের সম্মান যাতে ক্ষুণ্ণ না হয় সেটা মাথায় রাখব। অনেক সময় মজা করতে গিয়ে ভাষার প্রয়োগ বা শারীরিক ভঙ্গির প্রয়োগ অন‌্যকে অস্বস্তি দিতে পারে। এখন সময় এসেছে এটা নিয়ে কথা বলার। বন্ধুদের মধ্যে মজার ছলে অস্বস্তিকর কথা বলা বা নির্দিষ্ট শারীরিক ভঙ্গির ফলে অনেক সময় কেউ অস্বস্তিতে পড়লেও, তৎক্ষণাৎ কমপ্লেন হয়তো করেন না। কিন্তু যাঁরা অফেনসিভ কাজকর্ম করেন, তাঁরা এটা শুনে আশকারা পেয়ে যান। তাঁরা মনে করেন যে, এটা তো মজার বিষয়, এমনটা করাই যায়। সো উই হ‌্যাভ টু বি ভেরি ভেরি কেয়ারফুল। কেবল মহিলা নয়, কুইয়ার মানুষ এবং যারা বয়সে ছোট, জুনিয়র তাদের ডিগনিটির কথাও মাথায় রাখতে হবে। কারণ যারা নতুন, অনভিজ্ঞ তারা পাওয়ার পজিশনের খেলায় ব‌্যাকফুটে থাকে। টলিউডে পাওয়ার পলিটিক্স ভীষণভাবে কাজ করে, এটা আমার ব‌্যক্তিগত মতামত।

ব‌্যক্তি আবিরকে জিজ্ঞেস করতে চাই, অভিযুক্ত পরিচালকের সঙ্গে আপনি কি কাজ করতে চাইবেন?
এটা অত‌্যন্ত সতর্ক হয়ে আমাকে বিবেচনা করতে হবে। ঘটনাক্রম কোন দিকে যায় বুঝতে হবে। তবে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আমাকে খুবই ভাবাচ্ছে এবং সেই ভাবনাটা পজিটিভ ভাবনা নয় একেবারেই।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.