সুকুমার সরকার, ঢাকা: শুক্রবার ফের ধর্মীয় উন্মাদনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠে বাংলাদেশের রংপুর। নবি মহম্মদের অবমাননার অভিযোগ এনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় হিন্দুদের বাড়ি। চলে বিস্তর ভাঙচুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে উন্মত্ত ভিড়ের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। শুক্রবারের ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় এক জনের। জখম হন ২৫ জন।
[‘একা বার্মিজ সেনা নয়, রাখাইনে হিন্দুদের হত্যা করছে রোহিঙ্গা জঙ্গিরাও’]
পুলিশ সূত্রে খবর, নবি মহম্মদকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগ উঠে টিটু রায় নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এদিন নামাজের পর ওই পোস্টের প্রতিবাদে শালেহাশাহ বাজারে জমায়েত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ। পরে বিক্ষুব্ধরা গঙ্গাচড়ার হরকলি গ্রামে গিয়ে অভিযুক্ত টিটু রায়-সহ বেশ কয়েকজন হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে অগ্নি সংযোগ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তারপরই উন্মত্ত জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালায় পুলিশ। ফলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় হাবিবুর রহমান নামের এক বিক্ষোভকারীর।
স্থানীয় এক পুলিশ আধিকারিক আজিজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় ঠাকুরপাড়া গ্রামে শুক্রবার বিকেলের দিকে এই ঘটনা ঘটে। একটি মিছিল নিয়ে কিছু লোক স্থানীয় টিটু রায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পাশের ধীরেন রায়ের আরও দু’টি বাড়ি পুড়ে যায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের রাবার বুলেটে মাহাবুবুল, জামিল ও আলিম নামে তিন জন জখম হন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকমাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগ, হামলার নেপথ্যে রয়েছে জামাত ও খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-র নেতারা। রাজধানী ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম-সহ একাধিক জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন হিন্দুরা। রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলা হয়েছে মন্দির। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতায় এসেই তিনি সাফ জানিয়েছিলেন কোনও ধরনের ধর্মীয় মৌলবাদকে মেনে নেওয়া হবে না।
[চাকরির টোপ দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নামানো হচ্ছে দেহ ব্যবসায়!]