সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান ক্রমশই জটিল রূপ নিচ্ছে। ধর্মের নামে যুক্তি ও প্রযুক্তি দুটিকেই খাদে ফেলে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রবিবার রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারির দারুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসা ছাত্রদের দু’হাজার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। তারপর সেগুলিকে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
[পিএনবিতে কেলেঙ্কারি হয়েছে ২৯,০০০ কোটি টাকার! সিইওকে তলব করল SFIO]
ওই মাদ্রাসাটির প্রধান আহমেদ সাফি। মৌলবাদী সংগঠন হেফাজত-ই-ইসলামের প্রধান সাফি। বহুদিন ধরেই বাংলাদেশে শরিয়ত লাগু করার জন্য আন্দোলন চালাচ্ছে হেফাজত। অভিযোগ, জামাত ও উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে যোগ রয়েছে হেফাজতের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণতান্ত্রিক সরকারকে উপড়ে ফেলতে চাইছে তারা। মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক আনাস মাদানি বলেছেন, “মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগের ক্ষতি হয়। এমনিতেই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রদের মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ। তার উপর আগামী মাস থেকে দাওরায়ে হাদিসসহ বিভিন্ন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় দুই হাজার মোবাইল ফোন জব্দ করে। এরপর সেগুলো পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয়।”
এই পদক্ষেপের সমর্থন করে মাদ্রাসার মুখপাত্র আজিজুল হকের দাবি, ছাত্রদের নৈতিক পতনের জন্য দায়ী মোবাইল ফোন। রাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করায় তারা পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে উঠছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে ইন্ধন জোগাচ্ছে মোবাইল। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহারে ফতোয়া জারি করা দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেও বিস্তর ক্ষমতা রয়েছে মৌলবিদের হাতে। এছাড়াও বিগত দশকে দেশ জুড়ে বেড়েছে সালাফি ইসলামের প্রভাব। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ছে জেহাদিদের প্রভাব। তবে কোনওমতেই সন্ত্রাসবাদকে বাড়তে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশেই দেশ জুড়ে কড়া হাতে সন্ত্রাসবাদীদের দমন করছে নিরাপত্তাবাহিনী।
[বাবার আর্তিতে সাড়া, শিশুকন্যার জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য সাহায্য উঠল ২০ লক্ষ টাকা]