Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২২ জুন ২০২৬
Bangladesh Unrest

হিংসার বাংলাদেশে গুঁড়িয়ে গেল আওয়ামির জন্মস্থানও, শান্ত হওয়ার বার্তা ‘নিষ্ক্রিয়’ ইউনুসের

হিংসার হাত থেকে রেহাই পাননি বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিও।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৫, ১৫:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৫, ১৫:৫৫

options
link
হিংসার বাংলাদেশে গুঁড়িয়ে গেল আওয়ামির জন্মস্থানও, শান্ত হওয়ার বার্তা ‘নিষ্ক্রিয়’ ইউনুসের zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হিংসার আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ। ‘বিপ্লবী ছাত্র’দের হামলায় ধূলিসাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতি। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি। কিন্তু এখানেই ক্ষান্ত হয়নি উন্মত্ত জনতা। দিকে দিকে আওয়ামি লিগের কার্যালয়ে হামলা হচ্ছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হাসিনার দলের জন্মস্থানও। হিংসার হাত থেকে রেহাই পাননি প্রাক্তন সেনাপ্রধান, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিও। হাসিনা বিরোধীদের রোষ গিয়ে পড়েছে তাঁদের বাড়িতেও। এই পরিস্থিতিতে ফের বিবৃতি দিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। দেশের জনতাকে শান্ত হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনও কিছুই করেনি ইউনুস সরকার। হাসিনাকে দুষে এখনও ‘নিষ্ক্রিয়’ তারা। 

রাজনীতির ময়াদানে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আওয়ামি লিগ। দেশের টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য ইউনুসের পদত্যাগ চেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। ৫ তারিখ, বুধবার জানা যায়, দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দেবেন হাসিনা। সেই থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় বাংলাদেশে। এদিন সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আজ রাতে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে।’তারপরই মুজিবের ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব শুরু করে বিক্ষোভকারী। হাসিনার বাসভবন সুধা সদনেও আগুন জ্বালিয়ে তারা। বৃহস্পতিবারও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি ‘বিপ্লবী’দের। গতকাল রাতে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামি লিগের জন্মস্থানখ্যাত বায়তুল আমান ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভবনটি নারায়ণগঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ শামীম ওসমানের দাদার বাড়ি।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া এলাকার এই বায়তুল আমান থেকেই। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন—সংগ্রামে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল বায়তুল আমান। এই ভবনের মালিক খান সাহেব ওসমান আলি থেকে শুরু করে তার ছেলে একেএম শামসুজ্জোহা, তাঁর তিন ছেলে মরহুম একেএম নাসিম ওসমান, একেএম সেলিম ওসমান ও একেএম শামীম ওসমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন এ ভবন থেকেই। এখানেই শুরু হয় আওয়ামি লিগের যাত্রা। গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বাইতুল আমান ভাঙচুর করা হয়েছিল। এবার একেবারেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভবনটি। এছাড়া খরমপট্টি এলাকায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে হামলা চালায় ছাত্র-জনতার একটি দল। সেখানে ব‌্যাপক ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই ঘটনা ঘটে প্রাক্তন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের নোয়াখালীর বাড়িতেও।

বাংলাদেশের এই নৈরাজ্য নিয়ে নানা মহলে ব্যাপক নিন্দা শুরু হয় নানা মহলে। তারপরই মুখ খোলে ইউনুস সরকার। প্রথমে এক বিবৃতি দিয়ে মুজিবের বাড়ির হামলাকে ‘অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত’বলেও দোষ দেওয়া হয় হাসিনা। এরপর মাঝরাতে দ্বিতীয় বিবৃতি জারি করেন ইউনুস। সেখানে বলা হয়, ‘গভীর উদ্বেগের সঙ্গে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শক্তভাবে প্রতিহত করবে। অন্তর্বর্তী সরকার সব সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। কোনও ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে দায়ী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎক্ষণাৎ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’ কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই বক্তব্যের কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। দেশজুড়ে আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হচ্ছে, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাঙা হচ্ছে মুজিবুরের মূর্তি।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.