সুকুমার সরকার, ঢাকা: কয়েকবছর বাদে ফের রাজধানী ঢাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ফের ডেঙ্গু। বর্ষার মরশুম শুরুর পরেই রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর কারণে জনমনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। গতবছর চিকুনগুনিয়া রোগে নাস্তানাবুদ হয়েছিলেন দুই সিটির বাসিন্দারা। ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য জনসচেতনতার অভাবকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবগুলোই রাজধানী ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকাতেই ঘটেছে।
[বাংলাদেশে ট্রেনে-বাসে লাফিয়ে বাড়ছে যৌন হয়রানির ঘটনা]
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে বাড়তে থাকলে মৃতের সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। বিগত বছরগুলোতে- ২০০০ সালে ডেঙ্গুতে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০০২ সালে ৬ হাজার ২৩২ জন ও ২০১৬ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার ৬০ জন।ও ই বছর ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৬৯ জন এবং মৃত্যু ঘটে ৮ জনের। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মতে, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট আকারে হলেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতেই এডিস মশার প্রজনন বাড়ে।
[প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন জমা পড়ছে পদ্মাপারে]
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের অধিকাংশই রাজধানীতে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ২৬৩২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩২ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।