কৃষ্ণকুমার দাস, ঢাকা: বাংলাদেশে নির্বাচনের ঠিক আগে পুলিশ অফিসারদের হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষস্তরের পুলিশকর্তাদের নৃশংসভাবে খুন করে পুলিশবাহিনীর মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলবে। এমনই অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই বক্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। অভিযোগের তির সরাসরি বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ও জামাত জঙ্গিদের দিকে। হাসিনার শাসকদল আওয়ামি লিগের দাবি, পুলিশ খুনের জন্য বিএনপি ও জামাতরা পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সাহায্য নিয়ে ভোটের সময় বাংলাদেশে নাশকতার ছক কষেছে। ভোট বানচাল করার জন্য পুলিশকে আঘাত করে তাদের দুর্বল করার টার্গেট নিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৮৮ জন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার আওয়ামি লিগকে সমর্থন জানাতে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তখনই পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা তুলে হাসিনা বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না। এই চক্রান্ত ব্যর্থ করব আমরা।”
[বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে সতর্কতা, কড়া নজরদারি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে]
বাংলাদেশে এবার ভোটের পারদ যে চড়তে শুরু করেছে তার আঁচ পেয়েছিলাম গতকাল রাতে শেখ হাসিনার পুলিশদের সতর্ক করার মধ্য দিয়েই। শুক্রবার শীতের সকালে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পা রেখেই সেই উত্তাপ টের পেলাম। ঢাকার রাস্তাজুড়ে বিএনপির পতাকা আর হাসিনার বড় বড় কাট আউট। আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। জয়ের পথ অনেকটাই মসৃণ আওয়ামি লিগের। তবে আজ শুক্রবার যেহেতু বাংলাদেশে ছুটির দিন এবং ঘটনাচক্রে ভোটের আগে এদিনই শেষ পূর্ণ ছুটি তাই আওয়ামি লিগ, বিএনপি-সহ সব রাজনৈতিক দলই জোরকদমে বর্ণময় মিছিল করে প্রচার চালাচ্ছে। তবে পুলিশ কর্তাদের খুনের চক্রান্ত নিয়ে হাসিনার বিবৃতিতে ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমগুলিতে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ পেয়েছেন তাই উদ্বেগ ছড়িয়েছে সব মহলেই। গতকাল হাসিনা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বিরোধীদের এই পরিকল্পনা একজন ক্রিমিনাল লন্ডনে বসে করছে। কেউ কেউ পুলিশকে পয়সা দিয়ে হাত করেছে। আর বাকিদের হত্যা করে মানসিকভাবে দুর্বল করার চক্রান্ত করেছে। তবে ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। আমার এই আত্মবিশ্বাস আছে, পুলিশ দক্ষতা অর্জন করেছে, পুলিশের মধ্যে অনেক আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে।”
[নির্বাচনী ইস্তেহারে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি আওয়ামি লিগের]