সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফের সুর চড়াল মায়ানমার। দেশের অভ্যন্তরীণ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হস্তক্ষেপ মানা হবে না। সাফ জানাল সু কি সরকার। সদ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের হওয়া একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে এই বয়ান দেয় নাইপিদাও।
[পাতা কুড়িয়ে আয় ৯৭ হাজার, বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখালেন আদিবাসী বৃদ্ধা]
গত এপ্রিলে রোহিঙ্গা বিতরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আবেদন করেন এক আইনজীবী ফাতোও বেনসুদা। তিনি জানতে চান, রোহিঙ্গা বিতরণের বিষয়টি এইসিসি-র বিচারের এখতিয়ারে পড়ে কি না। তারপরই মায়ানমারের জবাব জানতে চায় এইসিসি। তার জন্য ২৭ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল সু কি সরকারকে। ইতিমধ্যেই উত্তীর্ণ হয়েছে সেই সময়সীমা। সেই মর্মেই সু কি সরকার সাফ জানিয়ে দেয়, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে নাক গলাতে পারে না আইসিসি। তার কারণ, মায়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য নয়। এদিকে আইনজীবী ফাতোও বেনসুদার বক্তব্য, রোহিঙ্গা ইস্যু মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। রাখাইন থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা আজ বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে রয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করতেই পারে আইসিসি। যদিও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ চায় না মায়ানমার।
গত বছর জঙ্গিদমন অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংস হামলা চালায় বার্মিজ সেনা। ফলে রাখাইন প্রদেশ থকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মৌখিক সমর্থন জানালেও এগিয়ে আসেনি কোনও দেশ। বিশ্ব মানচিত্রে ব্রাত্য ওই শরণার্থীদের জায়গা দেয় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। কয়েক দশক থেকেই বাংলাদেশে ঘটছে শরণার্থী সমাগম। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা। এতে প্রবল চাপে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশটির অর্থনীতি। এহেন পরিস্থিতিতে ঢাকার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত-সহ একাধিক দেশ। আর্থিক সাহায্য প্রধান করেছে বিশ্ব ব্যাংকও। তবে শীঘ্রই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
[ মুসলিমকে বিয়ে, বাঙালি মহিলার শ্রাদ্ধের অনুমতি দিল না দিল্লির কালীমন্দির]