সুকুমার সরকার, ঢাকা: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা শিবিরে হানা দিল মারণরোগ ডিপথেরিয়া। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৪২ জন শরণার্থীর। প্রায় দুই দশক আগেই বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করা হয় ডিপথেরিয়াকে। এবার রোহিঙ্গা শিবিরে ফের ভয়াবহভাবে আত্মপ্রকাশ করল এই রোগ।
[রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সময় লাগবে, বাংলাদেশের উদ্বেগ বাড়িয়ে জানাল মায়ানমার]
প্রশাসন সূত্রে খবর, কক্সবাজার জেলার উখিয়া, টেকনাফের শিবিরে ছড়িয়েছে ডিপথেরিয়া। কুতুপালং এমএসএফ ক্লিনিকে গত বছরের ১০ নভেম্বর প্রথম ডিপথেরিয়া রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়। ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পিএএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ জন। ডিপথেরিয়া অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সান্নিধ্য এমনকী রোগীর জামাকাপড় বা ব্যবহৃত অন্যান্য বস্তুর সংস্পর্শে এলেও ডিপথেরিয়া ছড়াতে পারে। ব্যাধিটি প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করতে পারে শিশুদের ক্ষেত্রে। হাম, যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির টিকা পায়নি শরণার্থীরা। এসব রোগের জীবাণু সঙ্গে করেই বাংলাদেশে এসেছে তারা। তবে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের টিকার আওতায় আনার জন্য রোহিঙ্গাদের মধ্যে ডিপথেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক এ এস এম আলমগির।
উল্লেখ্য, গত মাসেই বানের জলে ভেসে যায় কয়েক হাজার আশ্রয় কেন্দ্র। এমনিতেই শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত জায়গার অভাব রয়েছে। কোনওভাবে মাথা গুঁজে রয়েছেন উদ্বাস্তুরা। পর্যাপ্ত খাবারও নেই শিবিরগুলিতে। এমন পরিস্থিতিতে বিরামহীন বৃষ্টিতে জলে-কাদায় নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। বনের জল নেমে গেলে ছড়ায় নানা রোগ। এমনই পরিস্থিতিতে ডিপথেরিয়ার হানায় আতঙ্কে রয়েছেন শরণার্থীরা।
[রোহিঙ্গা ভূমিতে হিন্দুরাও নির্যাতিত, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে চাঞ্চল্য]