সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরাতে এবার তৎপর রাষ্ট্রসংঘ। আন্তর্জাতিক চাপে মাথা নুইয়ে পদক্ষেপ করল মায়ানমারও। দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করার পর শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করল সু কি সরকার।
[চুঁচুড়ায় মেলার ভিড়ে কিশোরীর সঙ্গে অসভ্যতা প্রৌঢ়ের, নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ভিডিও]
প্রশাসন সূত্রে খবর, বুধবার মায়ানমারের রাজধানী নাইপিদাওয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেরাতে রাখাইন প্রদেশে উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে বাংলাদশের সঙ্গে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে রাষ্ট্রসংঘ। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রোহিঙ্গাদের গণহত্যা নিয়ে আগেও মায়ানমারকে কড়া বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। তবে কিছুতেই বিতাড়িতদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি নাইপিদাও। তারপরই ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে শুরু করে আমেরিকা চাপ বাড়ায় সু কি সরকারের উপর। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একপ্রকার একঘরে হয়ে পড়ে নাইপিদাও। মনে করা হচ্ছে, এতেই কিছুটা পিছু হটেছে বার্মিজ সেনা। তারই ফলস্বরূপ স্বাক্ষরিত হয় এই চুক্তি। এই চুক্তির ফলে উদ্বাস্তুদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সদিচ্ছার অভাব রয়েছে মায়ানমারের। প্রযুক্তিগত বাধা দেখিয়ে এই চুক্তিও বাস্তবায়িত করবে না সু কি সরকার। এর আগেও বাংলাদেশের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চুক্তি সই করেছিল মায়ানমার। তবে নানা আইনি জটিলতার অছিলায় শরণার্থীদের ফেরত বইতে রাজি হয়নি সে দেশ। উল্লেখ্য, প্রায় ৮ হাজার শরণার্থীর একটি তালিকা মায়ানমারকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে পরিচয়ে ত্রুটি দেখিয়ে মাত্র ৬৫১জন শরণার্থীকে ফেরত নিতে রাজি হয় সু কি সরকার। এহেন পরিস্থিতে একপ্রকার অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশে দিন গুনতে হচ্ছে প্রায় ১০ লক্ষ শরণার্থীদের। মায়ানমারের উপর ভরসা না করে রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। এছাড়াও তাদের জন্য নয় বাসস্থান বানাতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার।
[দেশে ফেরা অনিশ্চিত, রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ বাংলাদেশের]