সুকুমার সরকার, ঢাকা: দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের ছায়া এবার ঢাকা থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায়। এক আইনের ছাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করার পর তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, চার দিন আগে চলন্ত বাসে দল বেঁধে ধর্ষণের পর ওই কলেজ ছাত্রীকে হত্যা করা হয়।
মধুপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে গণধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার-সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পেয়েছে পুলিশ। তিনজন ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। নিহত তরুণীর বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে। ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কোম্পানির প্রোমোশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি, কর্মস্থল ময়মনসিংহ জেলা সদরে।
[প্রবল বন্যায় ঘরে বসেই মাছ ধরছেন ইনি, ভাইরাল ভিডিও]
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মধুপুর উপজেলায় ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে মধুপুর পুলিশ। গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে সোমবার রাতে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে মৃতাকে শনাক্ত করে তাঁর পরিবার। মৃতার দাদা ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে আরেকটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। পরিবার সূত্রে খবর, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গত শুক্রবার বগুড়ায় যান তাঁর বোন। পরীক্ষা শেষে এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহনের বাসে ওঠেন। ওই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় তিনি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় নেমে যান। আর ওই বাসেই তাঁর বোনের ময়মনসিংহে পৌঁছানোর কথা ছিল। মৃতার দাদা বলেন, ‘ঠিক সময়ে আমার বোন ময়মনসিংহে না পৌঁছানোয় সহকর্মীরা ওঁর মোবাইলে ফোন করেন। এক যুবক ফোনটি ধরে বলেন, ফোনের মালিক ভুল করে সেটি ফেলে গেছেন। এরপর সংযোগ কেটে দেয়।’
[ডায়নার ‘নিঃসঙ্গ’ আত্মার সঙ্গে কথা বলেন, চাঞ্চল্যকর দাবি মনোবিদের]
এরপর থেকেই ফোনটি বন্ধ। শনিবার সকালেও তরুণী কর্মস্থলে না যাওয়ায় তার অফিস থেকে তাঁর বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে নিখোঁজ থাকার কথা জানতে পেরে বাড়ির লোকেরা ময়মনসিংহ কোতয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মধুপুরে একটি লাশ পাওয়ার খবর মিডিয়ায় দেখে তারা থানায় যান। মধুপুরের ওসি বলেন, মৃতদেহ শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার রাতেই বাসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন মৃতার দাদা। রাতেই অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ছোঁয়া পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার-সহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহতের মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায় তাদের কাছে। ছোঁয়া পরিবহনের বাসটিও আটক করা হয়।
ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পাঁচজনই স্বীকার করেছে অপরাধের কথা। এরমধ্যে তিনজনের স্বীকারোক্তি নথিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানায়, কালিহাতী থেকে মধুপুর পর্যন্ত রাস্তায় চলন্ত বাসে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় তরুণীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধর্ষণের সময় হাতজোড় করে মেয়েটি দুষ্কৃতীদের কাছে প্রাণভিক্ষার আরজি জানায়। কিন্তু প্রমাণ লোপাট করতে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে, মাথা থেঁতলে তরুণীকে হত্যা করে বাসের কর্মচারীরা। লাশ রাস্তায় ফেলে চলে যায়। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ধৃত পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেননি ওসি।