সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা (Coronavirus) পরিস্থিতি যে ক্রমশ লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছে, সে আশঙ্কা আগেই করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিনের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের গ্রাফ যেন সেই আশঙ্কারই জ্বলন্ত উদাহরণ। দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই মিলল না সোমবারও। এদিনও রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ভাঙল তার রেকর্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২২৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের।
রাজ্যে গোষ্ঠী সংক্রমণ যে শুরু হয়েছে, তা সোমবারই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেদিনই রাজ্যের করোনা আক্রান্তের গ্রাফ ফের লাগামছাড়া। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৮২ জনের শরীরে মিলেছে ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ। তার ফলে আক্রান্তের সংখ্যা মোট বেড়ে দাঁড়াল ৪৪ হাজার ৭৬৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। এখনও পর্যন্ত করোনার মোট বলি ১ হাজার ১৪৭ জন। তবে রাজ্যে সুস্থতার হার যথেষ্ট বেশি বলে আগেই আশা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। বর্তমানে রাজ্যে সুস্থতার হার ৫৯.০১ শতাংশ। স্বাস্থ্যদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৫ জন করোনা রোগী। করোনাকে হারিয়ে বাড়ি ফেরা যোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৬ হাজার ৪১৮ জন। অ্যাকটিভ কেস ১৭ হাজার ২০৪।
[আরও পড়ুন: পরিযায়ীদের বঞ্চিত করে রাস্তার কাজে মেশিন ব্যবহার, শ্রমিক বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে গেল কাজ]
লকডাউন (Lockdown) করে দেশে করোনা সংক্রমণকে রোখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তার প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতে। তাই বাধ্য হয়ে আনলক পর্যায়ের মাধ্যমে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আরও বেশি করে যে সংক্রমণ হবে, সে আশঙ্কা আগেই করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সাবধান হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। তবে কোনও কিছুতেই রোখা গেল সংক্রমণ। পরিবর্তে বর্তমানে রাজ্যে শুরু হয়েছে গোষ্ঠী সংক্রমণও। সেকথা সোমবারই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ফলে কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সপ্তাহে দু’দিন করে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই পদ্ধতিতে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে প্রত্যেকে।