Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Bardhaman Medical college hospital

২৪ ঘণ্টায় ৯ যমজ সন্তানের জন্ম! লক্ষ্মীপুজোয় নজির গড়ল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

অতীত ঘেঁটে কেউই মনে করতে পারছেন না আগে একদিনে এত সংখ্যক যমজ শিশুর জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছিল কিনা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২৪, ২১:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২৪, ২১:৪০

options
link
২৪ ঘণ্টায় ৯ যমজ সন্তানের জন্ম! লক্ষ্মীপুজোয় নজির গড়ল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল zoom

অর্ক দে, বর্ধমান: কাকতালীয় বললে ভুল হবে! বাস্তব কখনও কখনও গল্পকেও হার মানায়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একদিনে, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন প্রসূতি যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। অতীত ঘেঁটে কেউই মনে করতে পারছেন না আগে একদিনে এত সংখ্যক যমজ শিশুর জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছিল কিনা। অন্য কোনও হাসপাতালেও হয়েছে কিনা সেটাও কেউই নিশ্চিত করে মনে করতে পারছেন না।

কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন এমনই বিরল ঘটনার সাক্ষী রইল দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সেরা এই হাসপাতাল। যেখানে জুনিয়র-সিনিয়র চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ওই ৯ প্রসূতি যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সকলেই সুস্থ রয়েছে। ৫টি শিশুর ওজন কম থাকায় (দেড় কেজি করে) তাদের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে। এই ১৮টি নবজাতকের মধ্যে ১১টি কন্যাসন্তান রয়েছে। এটাও একটা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মলয় ঘোষাল জানান, এর আগে এই হাসপাতালে একদিনে সর্বোচ্চ ৩ জন প্রসূতি যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। একদিনে ৯ জন প্রসূতির যমজ সন্তানের প্রসবের ঘটনা এই প্রথম। তিনি বলেন, “এটা রেকর্ড। তা নথিভুক্তকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় আমরা আবেদন করব।”

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৯ জন প্রসূতির মধ্যে একজনের যমজ ছেলে ও মেয়ে হয়েছে, ৫ জন যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এবং ৩ জন যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ওই ৯ প্রসূতির সকলেই এই প্রথম মা হলেন। অর্থাৎ সকলেরই এবারই প্রথম সন্তানের জন্ম দিলেন। পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার কাইতির বাসিন্দা কৃষ্ণা নায়েক। তিনি যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। পরিবারের তরফে ওই দুই শিশুর নাম রাখা হয়েছে লক্ষ্মী ও সরস্বতী। কৃষ্ণা জানান, “কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন মা হয়েছি। খুবই আনন্দ হচ্ছে।” লক্ষ্মী, সরস্বতী একসঙ্গে ঘরে এসেছে। আনন্দে আত্মহারা পরিবারের সদস্যরাও।

জানা গিয়েছে, এই প্রসূতিরা পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নত পরিষেবা মেলে। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারও সফলভাবে করার নজির রয়েছে এই হাসপাতালের। সেই কারণে যে সব প্রসূতির পেটে যমজ বা তার বেশি সন্তান রয়েছে ধরা পড়ে তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। যমজ সন্তান প্রসব করানোর ঝুঁকি গ্রামের হাসপাতাল বা বেসরকারি হাসপাতাল নিতে চায় না। তারা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এইভাবে একদিনে ৯ জন প্রসূতি এখানে গর্ভে যমজ সন্তান নিয়ে এখানে ভরতি হন। সকলেরই সফলভাবে প্রসব করানো হয়েছে। এই প্রসূতিদের মধ্যে একজনের নরমাল ডেলিভারি করানো হয়েছে। বাকিদের সিজারিয়ান ডেলিভারি বা অস্ত্রোপচার করে প্রসব করানো হয়েছে। প্রসূতিদের মধ্যে কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম সম্প্রদায়ের।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, “গত আগস্ট মাসে মেডিক্যাল কলেজেই বিরল এবং জটিল অস্ত্রোপচারে এক কন্যাসন্তান প্রসব করানো হয়েছিল। ফের আমদের এখানে একদিনে ৯ প্রসূতির যমজ সন্তান প্রসব করানোর এই ঘটনায় প্রমাণ করল যে পরিষেবা নিয়ে আমরা কোনও আপস করি না। জুনিয়র-সিনিয়র সহ সকল কর্মীর প্রচেষ্টাতেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রোগী পরিষেবা দিতে সচেষ্টা হয়েছে।” হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান মলয় ঘোষাল, সিনিয়র চিকিৎসক কে পি দাস, জুনিয়র চিকিৎসক অর্পিতা প্রামাণিক, সঞ্চারী দাস, অন্বেষা আলম, শিখা গুপ্ত, স্বাতী গুপ্তা ও তন্ময় হালদার সহ নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মীলিত প্রচেষ্টায় এই রেকর্ড গড়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত প্রতি ৮০ জন প্রসূতি পিছু একজনের যমজ সন্তান হয়ে থাকে। সেখানে একদিনে একটি হাসপাতালে এতজনের যমজ সন্তান হওয়া সত্যিই বিরল ঘটনা।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.