সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্তান না হওয়ায় বধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে (Basirhat)। ইতিমধ্যেই ৩ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবারই আদালতে তোলা হবে অভিযুক্তদের।
জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে বসিরহাটের শাকচূঁড়ার বাসিন্দা রিয়া দাসের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল হাসনাবাদের বাসিন্দা দেবদাসের। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করে দেবদাস। কয়েকদিন যেতে না যেতেই পণের দাবিতে শুরু হয় অত্যাচার। এক পর্যায়ে বাপের বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেয় ওই তরুণী। পরবর্তীতে সন্তান না হওয়ার কারণে শ্বশুর-শাশুড়িও অত্যাচার শুরু করে রিয়ার উপর। এই নিয়ে অশান্তি লেগেই ছিল। এরই মাঝে শনিবার ফের রিয়ার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই রিয়ার গায়ে কেরোসিন ঢেলে জ্বালিয়ে দেয় শাশুড়ি। সঙ্গে ছিল স্বামী ও শ্বশুর।
[আরও পড়ুন: ‘একটা ফোনেই পুজোয় উপোস করা মেয়েটা ধর্ম পালটে জঙ্গি’, প্রজ্ঞার কার্যকলাপে স্তম্ভিত মা]
এরপরই দগ্ধ অবস্থায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই বধূকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে। একদিন সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর রবিবার মৃত্যু হয় ওই বধূর। তরুণীর মৃত্যুর খবর পেতেই বাড়িতে তালা দিয়ে চম্পট দেয় তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি। এরপরই মৃতার বাপের বাড়ির সদস্যরা অভিযোগ তোলেন যে, রিয়ার স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়িই তাঁদের মেয়েকে খুন করেছে। মৃতার বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ অভিযুক্তকে।