Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬

মাধ্যমিকের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে জড়িত সেনা জওয়ানের ছেলে! হতবাক বাবা

তালাবন্ধ রয়েছে মাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁসে ধৃত শাহবাজের বাড়ি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯, ১৯:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৯, ১৯:৪৫

options
link
মাধ্যমিকের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে জড়িত সেনা জওয়ানের ছেলে! হতবাক বাবা zoom
প্রশ্নফাঁসে ধৃত শাহবাজের বাড়ি

ধীমান রায়, কাটোয়া: বাবা সেনাকর্মী। বোনকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন মা। পড়াশোনায় মেধাবী ছেলের উজ্বল ভবিষতের আশায় মেমারির একটি মিশনে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিলেন শাহবাজের বাবা মা। কিন্তু, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই সেই ছেলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ধরা পড়েছে সিআইডির হাতে। রবিবার অনেক রাতে খবরটা ফোন মারফত এসেছিল কাটোয়ার কৈথন গ্রামে। সোমবার খুব সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মেমারির ওই মিশনে রওনা দেন ধৃত শাহবাজ আলি মণ্ডলের (১৮) মা সামিমা বেগম। দুপুরে কৈথন গ্রামে গিয়ে দেখা গেল বাড়িতে তালা ঝুলছে। তার তালাবন্ধ বাড়ির সামনে ইতিউতি ঘোরাঘুরি করছেন কয়েকজন গ্রামবাসী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের দেখেই এগিয়ে এসে জানালেন, এলাকায় মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে বলেই পরিচিত ছিল শাহবাজ। কিন্তু, মিশনে পড়তে গিয়ে এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়বে তা কার্যত ভাবতেই পারেননি তাঁরা।

Advertisement

মাধ্যমিকের শুরু থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায় একের পর এক বিষয়ের। স্বভাবতই এই ঘটনার জেরে অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। বিড়ম্বনায় পড়ে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদও। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চারিদিকে সমালোচনার ঝড় উঠতে শুরু করে। এরপরই রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে পরপর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি। গোয়েন্দারা জানতে পারেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সূত্র ধরেই রবিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে অবস্থিত “মামুন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল” নামে একটি মিশনের হস্টেল থেকে পাঁচজন পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের মধ্যেই ছিল কাটোয়ার কৈথন গ্রামের বাসিন্দা উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র শাহবাজ আলি মণ্ডল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

[মাধ্যমিকে প্রশ্নফাঁসের জন্য তৈরি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, সিআইডি-র জালে ৫]

কৈচর-কৈথন রোডের ধারেই একতলা পাকা বাড়ি শাহবাজদের। বাবা সেনাকর্মী জাহির আলি মণ্ডল বর্তমানে শিলিগুড়িতে কর্মরত। গতকালই ফোনে ছেলের গ্রেপ্তারির খবর পেয়েছিলেন। আজ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ছেলে যাতে ভালো করে পড়াশোনা করে তার জন্য ওই মিশনে পড়তে পাঠিয়েছিলাম। শুনেছিলাম ওখানে ছাত্রদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। তাই আমিও ওকে মোবাইল ফোন কিনে দিইনি। তাহলে ওর হাতে কীভাবে মোবাইল ফোন এল তা আশ্চর্যের বিষয়। বাবা হিসেবে আমি স্তম্ভিত।”

[ফাঁসই যেন রুটিন! মাধ্যমিকের চতুর্থ দিনে ভূগোল প্রশ্নও হোয়াটসঅ্যাপে]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহির আলি মণ্ডল ও সামিমা বিবির যমজ সন্তান শাহবাজ ও মিতা খাতুন। মিতা কাটোয়ার একটি স্কুলের ছাত্রী। গতকাল ছেলের গ্রেপ্তারির খবর পেয়েই বাড়িতে তালা মেরে আজ মেমারির ওই মিশনে গেছেন সামিমা। তবে আজ শাহবাজদের গ্রামে গিয়ে দেখা হল তার মামা জালাল আহমেদের সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে কৈথন গ্রামেরই বাসিন্দা জালাল বলেন, “ভাগনা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গ্রামের মাদ্রাসায় পড়েছিল। তারপর ওই মিশনে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পড়াশোনা করে মাধ্যমিকে ৭৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশও করে। তারপর বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পড়ছিল। এতদিন ওর নামে কোনও বদনাম শোনা যায়নি। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তার তদন্ত হোক।”

স্থানীয় গ্রামবাসী সাহেব শেখ ও রিপন শেখ-রা বলেন, “শাহবাজ হয়ত কারও প্ররোচনায় এই ভুল করতে পারে। ও জেনেবুঝে এই অপরাধ করবে তা আমরা বিশ্বাস করি না।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.