চন্দ্রশেখর রায়, আসানসোল: দুটি গাড়ি একে অপরকে ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল আসানসোলের জি টি রোডে। দমকলের গাড়ি দাঁড় করিয়ে মারমুখী হয়ে উঠতে দেখা গেল এক গৃহবধূকে। দমকলকর্মীদের সঙ্গে বিবাদ শুরু হয় মহিলার। এবং তা গিয়ে পৌঁছায় হাতাহাতিতে।
বাংলা বছরের প্রথম দিন আসানসোলের মুর্গাসোল এলাকায় জি টি রোডের উপর দমকলের গাড়ির কর্মীদের সঙ্গে বচসা বাঁধে এক গৃহবধূর। দমকলকর্মীদের গালিগালাজ, চড়, ঘুসি মারতেও দেখা যায় ওই মহিলাকে। এমনকী গাড়িতে উঠে তাঁদের নামিয়ে আনার চেষ্টাও করেন মহিলা। ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে আসানসোলের জিটি রোডের যান চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়ে। শেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

[কবর থেকে চুরি যাওয়া মাথার খুলি ফেরতের দাবিতে লাগাতার থানা ঘেরাও]
এদিন আসানসোল বাজার থেকে জামুরিয়ার দিকে ছোট একটি চারচাকা গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন অমিত কুমার এবং তাঁর স্ত্রী। দম্পতির অভিযোগ, মুর্গাসোলের কাছে একটি দমকলের গাড়ি তাঁদের ওভারটেক করে সামনে দাঁড়িয়ে যায়। তারপরই দমকলকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে তেড়ে তাঁদের দম্পতির দিকে। রীতিমতো মারমুখী হয়ে ওঠেন তাঁরা বলে অভিযোগ। অমিত কুমারকে মারধর করা হয়। কানে চোট লাগে তাঁর। এমনকী তাঁদের গাড়ির লুকিং গ্লাসও ভেঙে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওই দম্পতি। এমন ঘটনায় স্থানীয়দের ভিড় জমে গিয়েছিল। এরপরই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন অমিত কুমারের স্ত্রী। সাহস করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তিনি। তখনই দমকলকর্মীদের চড়, ঘুসি মারতে শুরু করেন। তাঁকে থামানোই কঠিন হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দক্ষিণ থানার পুলিশ। মধ্যস্থতা করে দুপক্ষকে শান্ত করে পুলিশ। ফলে কেউই আর এ ঘটনার অভিযোগ দায়ের করেননি। এরপরই দমকলের গাড়িতে ছেড়ে দেওয়া হয়। গাড়িটি মুর্গাসোলের এস পি চ্যাটার্জি রোডে একটি আগুন নেভাতে যাচ্ছিল বলে খবর।
[কাঁটাতারেই বন্দি জীবন, মুক্তির খোঁজে ভোটে প্রার্থী চরমেঘনার তিন পরিজন]
তবে দমকলের পক্ষ থেকে এএসআই ফৈয়াজ খান বলেন, দম্পতির গাড়িকে প্রায় ঘণ্টাখানেক হর্ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কিছুতেই রাস্তা ছাড়ছিলেন না। সেই কারণেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে তাঁদের বকাবকি করা হয়েছিল। কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি। তবে দম্পতির দাবি, তাঁদের গাড়িকে হর্ন দেওয়া হয়নি। তবে সরকারি কর্মীদের গায়ে হাত দেওয়া যে ঠিক হয়নি, তা পরে বুঝতে পারেন ওই মহিলা।