Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Durga Puja

Durga Puja 2021: মহাদেবের বাম উরুতে আসীন দেবী, বর্ধমানের দে বাড়িতে আরাধনা হয় হরগৌরীর

পুজোর প্রচলন নিয়েও রয়েছে নানা কাহিনী।,

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২১, ০৮:৩১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২১, ০৮:৩১

options
link
Durga Puja 2021: মহাদেবের বাম উরুতে আসীন দেবী, বর্ধমানের দে বাড়িতে আরাধনা হয় হরগৌরীর zoom

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: দেবী দশভুজা নন। মহিষাসুরও নেই। দেবী মহাদেবের বাম উরুতে আসীন। সন্তানরাও সকলেই রয়েছেন। গণেশ ও কার্তিকের বাহন রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মী ও সরস্বতীর বাহন থাকে না। আড়াইশো বছর ধরে পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) বড়শুলের জমিদার বাড়িতে এভাবেই হরগৌরীর আরাধনা হচ্ছে। দে পরিবারের এই পুজোর প্রচলন নিয়েও রয়েছে নানা কাহিনী।,

একটা মত, এই পরিবারের পূর্ব পুরুষদের কেউ স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরগৌরীর আরাধনা (Durga Puja 2021) শুরু করেন। আর একটা মত হচ্ছে, একসময় এই জমিদারবাড়িতে সাধুসন্তরা এসে থাকতেন। অতিথি শালায় সপাক রান্না করে আহার গ্রহণ করতেন তাঁরা। জমিদার যাদবচন্দ্র দে-র আমলে তেমনই সাধুসন্তরা এসে ঝোলা থেকে বেশ কয়েকটি ছবি বের করেছিলেন। তার পর পরিবারের এক কন্যাশিশুর চোখ বেঁধে একটি ছবি তুলতে বলেছিলেন তাঁরা। সেই কন্যাশিশু হরগৌরীর ছবিটি তুলেছিল। সেই থেকেই হরগৌরীর পুজো শুরু হয় এখানে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: Durga Puja 2021: বন্ধ বলিপ্রথা, আজও একচালার প্রতিমাতেই পুজোর হয় মগরাহাটের বোসবাড়িতে]

তবে এই পরিবার বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত। তখন তাঁরা গুরুদেবের শরণাপন্ন হন কী রীতিতে দেবীর আরাধনা করা হবে। বর্তমান এস্টেট ম্যানেজার দীপককুমার দে জানান, গুরুদেবের পরামর্শে গোস্বামী মতে পুজো শুরু হয় এখানে। তাঁর পরামর্শেই সপ্তমীতে গোটা ছাঁচিকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। অষ্টমীতে ছাগবলি হয়। নবমীতে তিনটে ছাঁচিকুমড়ো, চারটি শসা, বাতাবি লেবু ও মূলসহ তিনটি আখ বলি দেওয়া হয়। তবে বলি দেওয়া কোনও জিনিসই এই পরিবারের কেউ আহার করতে পারেন না।

এই জমিদার পরিবারের একসময় তাম্বুল ও লবণের কারবার ছিল। দামোদর নদ ব্যবহার করে বড় বড় বজরায় পণ্য ক্রয়বিক্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হত। একসময় মন্দা দেখা দিয়েছিল এই কারবারে। দেবীর আরাধনায় সুদিন ফিরেছিল বলে কথিত আছে। সেই আমলের জমিদারির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে বড়শুলের একটা বড় অংশে। শক্তিগড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে বড়শুল পর্যন্ত রাস্তাটি এই পরিবারেরই সদস্য মনমোহন দে-র নামে।

জাতীয় সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার গিয়ে ডানদিকে বাঁক নিয়ে গলি রাস্তা ধরে গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে দে বাড়ি। অতীতের আভিজাত্য, ঐতিহ্য, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। পলেস্তারা উঠে গিয়েছে অনেক জায়গায়। সরু ইটেও ক্ষয় ধরেছে। সিনেমায় দেখা ভুতুড়ে বাড়ির মতই যেন কঙ্কালসার চেহারা। তবে কয়েকটি বাড়িতে এখনও পরিবারের উত্তরসূরিরা বসবাস করেন। বাকি ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। অনেকে অন্যত্র বসবাস করেন। কাছারিবাড়ির ঠিক উল্টোদিকেই রয়েছে ঠাকুরদালান। সেখানেই রয়েছেন হরগৌরী। একটু দূরে রয়েছে কূলদেবতা রাজরাজেশ্বরের মন্দির।

[আরও পড়ুন: Durga Puja 2021: ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবতা, মুর্শিদাবাদের সান্যাল বাড়ির দুর্গাপুজোয় অংশ নেন মুসলমানেরাও]

পরিবারের সদস্য নীলেন্দ্রপ্রসাদ দে জানান, একসময় ঠাকুরদালানে ঝারবাতি ছিল। ঠাকুরদালানের প্রবেশ পথে ছিল বিশাল ঘণ্টা। কুইন্ট্যাল খানেক ওজন ছিল তার। কিন্তু সেইসব চুরি করে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এখন বৈদ্যুতিক ঝারবাতি লাগানো হয় শারদোৎসবের সময়। পুজোয় সেই জৌলুস এখন অনেকটাই ফিকে হয়েছে। কিন্তু পরম্পরা মেনে আজও হরগৌরীর আরাধনা হয় দে পরিবারে। আগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। মহিলারা পর্দানসীন থেকে তা দেখার সুযোগ পেতেন। তবে পুজোয় পরিবারের মহিলাদের অংশগ্রহণ বরাবরই রয়েছে এখানে। এখানকার একটি পাড়ার বাসিন্দারা প্রতিমা কাঁধে করে বিসর্জন দিতে নিয়ে যেতেন। তার পর তাঁদের পেট ভরে লুচিমিষ্টি খাওয়ানো হত। সেই ধারা এখনও বজায় রয়েছে। জমিদারি চলে গেলেও হরগৌরীর আরাধনায় কোনও ত্রুটি থাকে না ‘জমিদারবাড়িতে’।

 

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.